ফয়সাল আহমেদ শাকিল
দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং শেষে 'আয়না ঘরে' নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে অবশেষে দলের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেলেন ১৫২ ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের জননন্দিত নেতা ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে তার নাম ঘোষণা করেন। দলের এমন সিদ্ধান্তকে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের প্রতি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্মম নির্যাতনের পর রাজনীতির মাঠে ফেরা ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। ২০২৪ এর ২৮ জুলাই রাতে তাকে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন। বিশেষত, তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আর্থিক সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগে চাপ দেওয়া হয়। মুক্তির পর তিনি অভিযোগ করেন যে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে (ছোট একটি সেলে) , যা 'আয়না ঘর' নামে পরিচিত, সেখানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তিনি অনেক আত
তিনি জানান " হয়তো ৫ তারিখ না হলে আমি ফেরত আসতামনা" সরকার পতনের পরের দিন ৬ তারিখ তিনি মুক্তি পান। এই ঘটনা তাকে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করলেও, রাজনৈতিকভাবে করেছে আরও দৃঢ়। তার এই 'আয়না ঘরের' অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে সহানুভূতি এবং জনপ্রিয়তার এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেন, "বাবু ভাই আমাদের সংগ্রামের প্রতীক। তিনি সরকারের হাতে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করেও দলের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন। আজ দল তাকে মনোনয়ন দিয়ে প্রমাণ করল—বিএনপি কখনোই তার ত্যাগী কর্মীদের ভুলে না। এই মনোনয়ন আমাদের বিজয়ের পথ সুগম করবে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সংগ্রাম আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেগময় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। একজন নির্যাতিত নেতার প্রতি জনগণের সহানুভূতি ব্যালটবাক্সে ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে।
এই মনোনয়নের মাধ্যমে বিএনপি বার্তা দিল যে তারা কেবল জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদেরও সর্বোচ্চ সম্মান দেয়। ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর এখন প্রধান লক্ষ্য হলো 'আয়না ঘরের' অন্ধকার অভিজ্ঞতাকে জনসমর্থনের আলোয় পরিণত করে আসনটি পুনরুদ্ধার করা এবং এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমৃদ্ধ রাজনীতি উপহার দেওয়া।