জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 12-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েও মুক্ত বিএনপি কর্মীরা

 মো: নাজমুল হাসান জাবেদ 

 শনিবার দুপুরে আকস্মিক একদল দেশীয় অস্ত্রধারীর মহড়া দেখা মেলে ফতুল্লার শিয়াচর এলাকায়। অল্প সময় পরেই মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এলাকায় রটে যায়, গোলাগুলি চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। আতঙ্কে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা। শিয়াচর হাজীবাড়ি মোড় পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। যার নেপথ্যে প্রধান দুই চরিত্র। একদিকে দস্যু জয়নাল, অন্যদিকে ইউনুচ মাস্টার। 


ফতুল্লার হাজীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা, আশ্রয় প্রশ্রয়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে জয়নাল আবেদীন ওরফে দস্যু জয়নালের বিরুদ্ধে। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন তাদের এক প্রকার কোনঠাসা করে রেখেছে এই জয়নাল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রীতিমত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলো জয়নাল। 

অন্যদিকে বিতর্কের জালে রয়েছে ফতুল্লার রেললাইন এলাকার ইউনুচ মাস্টার। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। দুজনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাঁধে শনিবার। যেখানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, দোকান পাট ও বাড়িঘরের জানালা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর টিম হাজির হয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে জয়নাল আবেদিন আটক হলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ইউনুচ মাস্টার। 

এর বাইরে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন আটক হলেও তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। মূলত সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়ে ছিলেন ঘর থেকে। দুই গ্রুপের কোন পক্ষের অনুসারী বা নেতা নন দোলন। যেই কারনে তাকে আটকের পরেও মুক্ত করে দেয় পুলিশ। তবে এই ঘটনার পর জয়নাল আবেদীন সহ আরও কয়েকজন মুক্তি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়নাল এবং ইউনুচ দুজনই পুরো এলাকায় ত্রাস করে বেড়ায়। আটক হবার পর এলাকাবাসী অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন মিস্টি বিতরণের। কিন্তু মুক্তির খবরে আবারও হতাশ হন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, যেখানে প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণের মত ঘটনা ঘটেছে, সংঘাত সহিংসতা হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে হাতেনাতে আটক করেছে। সেখানে তাদের মুক্তি দেয়া এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। তাছাড়া পুলিশ সদস্যরা বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। 

স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ অপকর্ম করে বেড়ানো এই দুই হোতার কারনে এলাকায় বিএনপির ভোট ও সমর্থন প্রতিনিয়ত কমছে। অব্যহত চাঁদাবাজিতে এলাকাবাসী বিরক্ত। বিএনপি পরিচয়ের কারনে থানা থেকে মুক্তি পেয়েছেন এমন কথা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে আরও বেশি তটস্থ হয়েছে এলাকাবাসী। পুলিশের এমন উদার নীতি অত্র অঞ্চলের জন্য ভীতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে বিএনপির ভোটে নেতিবাচক প্রভাবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এই ধরণের ঘটনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে মহিলা দলের বহিষ্কৃত

1

চরকাউয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে ছাই

2

খেলাফত শুধু ইসলামের জন্য নয়, প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিরাপত্ত

3

গলাচিপায় যুব উন্নয়নের ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মাধ্যমে কম্পিউটার প

4

সুনামগঞ্জের সুরমা নদী(রামনগর ডোয়ার)দখল

5

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ

6

সোমবার বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে শেখ হাসিনার মামলার রায়

7

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের অঙ্গীকার

8

নওগাঁয় স্কুল মাঠ দখল করে বাণিজ্য মেলা

9

খুরুশকুলে মৎস্য ঘেরে যুবক খুন

10

পাবনায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে র‌্যাংক ব্যাজ পর

11

বছরের প্রথম দিনে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ নতুন বই ব

12

সুপরিকল্পিতভাবে তালা বাসিকে জলবদ্ধতা থেকে রক্ষা করব: শুভাশুন

13

নগরীতে যুবকের লাশ উদ্ধার

14

জামায়াত ইসলামী উখিয়া উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধন ও কেন্দ্র প্রতি

15

মঠবাড়িয়ায় অটো রিকশাচালক হৃদয় হ"ত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের

16

ধানের শীষ প্রতীকে আলহাজ্ব সাইফুর রহমান রানার সমর্থনে প্রতিনি

17

নান্দাইলে ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত

18

যৌথবাহীনির মোবাইল কোট অভিযান সুনামগঞ্জ হাওর

19

ভেনেজুয়েলার বিনিময়ে ২০১৯ সালেই ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেন চেয়

20