খ,ম,ঙজায়েদ হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলায় আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের দোল খাওয়ায় খুশির জোয়ার বইছে কৃষকদের মনে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ শুধু কৃষকদেরই নয়, পুরো অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে এখন চলছে সোনালি ধানের উৎসব।
ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে।
ইউনিয়নের নাসির পুর গ্রামের কৃষক রবিউল হোসেন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৪ বিঘায় ব্রি-৩৪ এবং ২ বিঘা ব্রি-৫১ ধানের আবাদ করেছেন। তিনি আশা করছেন, চিকন ধানে বিঘা প্রতি ২০-২২ মন এবং মোটা ধানে ৩০-৩২ মন ফসল পাবেন। যদিও সার ও কীটনাশকের দাম বেশি ছিল, তবে ফলন ভালো হওয়ায় বাজার দর সন্তোষজনক থাকলে লাভ হবে।
বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে ব্রি-৫১ ধান চাষ করেছেন এবং বিঘাপ্রতি ২৮-৩০ মন ফলন আশা করছেন। জমিতে মোটরসেচসহ যাবতীয় খরচ কিছুটা বেশী হলেও ভালো ফলনে তিনি সন্তুষ্ট।
কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং পর্যাপ্ত রোদ পাওয়ায় ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ২৫-৩২ মন ফলন তুলতে পারছেন তারা। গত বছরের তুলনায় ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।
ধান কাটার কাজে নিয়োজিত কৃষি শ্রমিকরাও তাদের কাজের জন্য ভালো মজুরি পাচ্ছেন। পুরুষ শ্রমিকরা দিনে ৬০০-৭০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকরা ৪০০-৫০০ টাকা দিন হাজিরা পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান শাকিল জানান, এ বছর নাসির নগর উপজেলায় আগাম ও মধ্যমেয়াদী আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। সময় মতো সার,কীটনাশক ও মাঠ তদারকির এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ফসল ভালো হয়েছে।
বাজার মূল্য সন্তোষজনক থাকায় কৃষকরা খুশী। বিশেষ করে ব্রি-৩৪ সুগন্ধি জাতের ধানে রোগ-পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।