মেহেদী হাসান হাবিবপৌষের ঘন কুয়াশা আর যমুনার মরণফাঁদে আবারও বিপাকে সাধারণ মানুষ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জামথল ঘাটে যাওয়ার পথে মাঝনদীতে দিক হারিয়ে চরে আটকা পড়েছে একটি যাত্রীবাহী নৌকা। এতে নারী-পুরুষসহ প্রায় ২০ জন যাত্রী চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন।
ঘটনার বিবরণ: গত ৩০ ডিসেম্বর, সোমবার ভোরে ঘন কুয়াশা মাথায় নিয়েই প্রতিদিনের মতো কালিতলা ঘাট থেকে একটি নৌকা মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাত্রীদের দেওয়া তথ্যমতে, ভোর ৬টার দিকে নৌকাটি ঘাট ত্যাগ করে। প্রায় এক ঘণ্টা চলার পর জামথল ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালেও চারপাশ ঘন কুয়াশায় অন্ধকার হয়ে আসায় নৌকার মাঝি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। যমুনার প্রবল স্রোত আর শূন্য দৃশ্যমানতার কারণে মাঝি নৌকাটি একটি অজ্ঞাত চরে নোঙর করতে বাধ্য হন।
যাত্রীদের অবস্থা: নৌকায় থাকা বিজয় নামে এক যাত্রী মুঠোফোনে জানান, "আমরা কুয়াশার কারণে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। মাঝি অনেক চেষ্টা করেও ঘাট খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আমাদের একটি বালুচরে থামিয়ে রেখেছে। কনকনে শীতে আমরা সবাই খুব আতঙ্কে আছি এবং দ্রুত উদ্ধার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।" বর্তমানে নৌকার সকল যাত্রী নিরাপদ থাকলেও খোলা নদীর ওপর তীব্র ঠান্ডায় তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
বারবার একই চিত্র, নেই কোনো সমাধান: স্থানীয়দের অভিযোগ, সারিয়াকান্দি–মাদারগঞ্জ নৌপথে কুয়াশার মৌসুমে এমন ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নৌকায় জিপিএস ট্র্যাকার বা আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় মাঝিদের শুধু অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে চলতে হয়। প্রতিবছর এমন ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়লেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কতবার এভাবে মানুষ বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে? নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে যমুনাপাড়ের মানুষকে?
মন্তব্য করুন