আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ -১ (কাজিপুর + আংশিক সদর ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের আওয়ামীলীগের দুর্গখ্যাত এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা নিয়মিত হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ চষে বেড়াচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও ২০২০ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা জনাব সেলিম রেজা,সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জনাব নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, কন্ঠ শিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির প্রিন্সিপাল শাহীনুর আলম।
বিএনপি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মনোনয়ন যুদ্ধে এক ধাপ এগিয়ে আছেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সফল সভাপতি জননেতা সেলিম রেজা। তাদের মতে, ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলনমুখী রাজনীতির প্রতিটি ধাপে সেলিম রেজা ছিলেন সামনের সারিতে।বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপির নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। সেই সময়কার নির্যাতন, গ্রেপ্তার, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা রাজপথে থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন সচল রেখেছিলেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, দীর্ঘ রাজপথের লড়াইয়ে একাধিকবার কারাগারে গিয়েও তিনি কখনো আপস করেননি। অনেক সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, পরিবারগুলোকে সহায়তা করেছেন। এ কারণেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বেশি।
সেলিম রেজা বলেন, ‘রাজনীতির শুরু থেকেই আমি বিএনপির কর্মী ও সমর্থক। দলের দুঃসময়ে আমি কর্মীদের পাশে থেকেছি, তাদের খোঁজখবর নিয়েছি। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি সিরাজগঞ্জ -১ আসনকে আধুনিক, শিক্ষিত ও কর্মসংস্থানের শহর হিসেবে গড়ে তুলব। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের প্রতীক হবে ধানের শীষ।
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা নাজমুল হাসান তালুকদার রানাও নমিনেশনের জন্য গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় মাঠের রাজনীতি করায় এবার মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অপরদিকে প্রখ্যাত কন্ঠ শিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাও নমিনেশনের জন্য প্রচার প্রচরণা চালিয়ে যাচ্ছেন।২০১৮ সালে নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় এবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রত্যাশী তিনি ।
প্রচার প্রচরণায় থেমে নেই জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহীনূর আলম।দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত প্রচার প্রচরণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
ভোটারদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিরাজগঞ্জ -১ আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এখন বিএনপির শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে । তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখানে সেলিম রেজায় সাংগঠনিক ঐক্য ও নেতৃত্বের যোগ্যতায় উপযুক্ত। দলের জন্য সেলিম রেজার যে ত্যাগ, সেদিক থেকে দেখলে বিএনপি তাকেই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত করবে।
আসন্ন নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ -১ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভেতর যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সিরাজগঞ্জ -১ আসনের ভোটাররা।