বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গলাচিপা উপজেলা শাখার উদ্যোগে জৌনপুরী খানকা মাঠে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেশহরের নানা প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে মিলিত হয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন — এমন দৃশ্যগোলাপি আবেগ ও উদ্দীপনায় অজানা ইতিহাস লিখে ফেলল গলাচিপা।র্যালি ও সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা জনাব হাসান মামুন। সভায় তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বললেন —
> “আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন এখানে বিএনপি এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আমরা শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবো। তারপর গলাচিপা দশমিনা উপজেলার নেতা কর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নিবে তা আমি মেনে নিব।”
প্রধান অতিথির এই ঘোষণায় যোগ হলো দলের কেন্দ্রীয় নীতির প্রতি আস্থা ও ঐক্যের বার্তা — “প্রার্থী নির্বাচন করবে দল” — এই মর্মরেখা বারবারই সভায় উচ্চারিত হয়।
“আমরা আর কত পরীক্ষা দেবা — ১৫ বছর জেল-জুলুম সহ্য করেছি” — আবদুস সাত্তার হাওলাদার
বিশেষ অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুস সাত্তার হাওলাদার সভায় বক্তব্যে ঘরভর্তি নেতাকর্মীর সামনে বললেন—
> “আমরা আর কত পরিক্ষা দিবো দীর্ঘ ১৫ বছর জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে আসছি। আজকে আবার নতুন সুর,,আমরা হাসান মামুন ভাইয়ের বাহিরে অন্য কোন কাউকে মেনে নিব না।”
এই আবেগঘন ও দৃঢ় কণ্ঠে শোনালেন যে, গত পনেরো বছরে দল ও সমর্থকরা যে নির্যাতন-সন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় নেতারা একাগ্রতা ও নেতৃত্বে স্পষ্টতা চান। তার এই বক্তব্যে মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা বারবার দোদুল্যমান স্লোগান ও করতালি দেন।
মাঠের উচ্ছ্বাস — আগে কখনো এমন দৃশ্য হয়নি
জৌনপুরী খানকা মাঠে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, সঙ্গীত, ব্যানার, পতাকা ও স্লোগানের অভিঘাতে পুরো পরিবেশ উৎসবসদৃশ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বলছেন — নেতা–কর্মীদের মাঝে এত আনন্দ-উল্লাস ও ঐক্যের দৃশ্য গলাচিপায় আগে কখনো দেখা যায়নি। বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি বারবার পুনর্ব্যক্ত করেন।
গলাচিপা-৩ আসন: মনোণয়ন ফাঁকা — জোট সম্ভাবনা, নুরের কথা
রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে — বিএনপি ইতিমধ্যে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও গলাচিপা-৩ আসনে এখনো মনোনয়ন দেয়নি; এবং এই আসন সম্ভবত মিত্রশক্তি তথা গণ অধিকার পরিষদের জন্য রাখার আলোচনাও চলছে। ঐ প্রেক্ষাপটে জনমানসে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে।
শেষ কথা
সভা শেষে একটি প্রামাণ্য সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতা-কর্মীরা মাহতালুকভাবে ঘোষনা করেন — দলের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে। হাসান মামুন ও আবদুস সাত্তার হাওলাদারের কণ্ঠে উঠে আসা দৃঢ়তার বার্তাই ছিল আজকের সভার প্রধান মন্ত্র।