ফয়সাল আহমেদ শাকিল
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আলিনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজে ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ভূতুড়ে সব খাতে টাকা আদায় এবং নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষকে তার কক্ষে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখে।
শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা মানি রিসিট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য জনপ্রতি ৫,৯৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসের বেতন (২,৪০০ টাকা) অগ্রিম আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া আইডি কার্ড বাবদ ১১০ টাকা, ল্যাব ফি ৩০০ টাকা এবং উন্নয়ন ফি ৪৫০ টাকা সহ ১৪টি খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা কলেজ পরিদর্শনে গেলে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। লাইব্রেরি বাবদ ২০০ টাকা ফি নেওয়া হলেও বাস্তবে কলেজের অনেক শিক্ষার্থীই জানেন না লাইব্রেরির অবস্থান কোথায়। অধ্যক্ষের দেখানো লাইব্রেরি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের গুটি কয়েক বই ছাড়া আর কোনো একাডেমিক বই নেই। নেই শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কোনো টেবিল বা চেয়ার।
অন্যদিকে, ল্যাব ফি ৩০০ টাকা নিলেও কম্পিউটার ল্যাবটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ল্যাবের কম্পিউটারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এমনকি কলেজের দোতলার বারান্দায় কাপড় শুকানোর চিত্রও দেখা গেছে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নজিরবিহীন।
শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বেতন ৪০% হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সবার কাছ থেকে ১০০% বেতন আদায় করছে। গত বছর আইডি কার্ডের নাম করে ২০০ টাকা নিলেও কোনো শিক্ষার্থী কার্ড পায়নি, অথচ এ বছর পুনরায় ১১০ টাকা করে আইডি কার্ড ফি আদায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে বহাল তবিয়তে আছেন। গত বছর সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরে তা আর করা হয়নি। আজ রবিবার সকাল ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অধ্যক্ষ তার নিজ কক্ষেই তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে তালাবদ্ধ করে রাখলে খবর পেয়ে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং কলেজের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে এসিল্যান্ডকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খোলা হলেও আমাদের দাবি আদায় না হলে এবং ভূতুড়ে ফি ফেরত না দিলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।