মোঃ জাকে উল্লাহ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা নতুনপাড়া গ্রামের ‘কান্দর’ ও ‘গারা ক্ষেত’ এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমির জলাবদ্ধতা সমস্যার অবসান হতে যাচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং এলাকাবাসীর অর্থায়নে ঘুড়কা ইউনিয়নের ‘সম্প্রতি নতুনপাড়া’ এলাকায় মাটির নিচে এক হাজার ১০০ ফুট দীর্ঘ ৪০০ এমএম ইউপিভিসি পাইপ স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে এ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমিতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় গত প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রায় দুই হাজার বিঘা ফসলি জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই জমি পানিতে তলিয়ে যেত। ফলে কৃষকেরা অনেক সময় বছরে একবারও ঠিকমতো ফসল তুলতে পারতেন না। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এরপর এলাকাবাসীর উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
বিএডিসি রায়গঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ বর্মণ বলেন, “নতুন স্থাপিত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে চলতি মৌসুম থেকেই কৃষকেরা ফসল আবাদে সুফল পাবেন।”
স্থানীয় কৃষক তোমেজ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম খোকন, হানিফ মণ্ডল, ছোরহাব, লিটন ও পরেশ তালুকদার বলেন, “প্রায় তিন দশক ধরে জলাবদ্ধতার কারণে আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। এবার এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় আবার জমিতে চাষ করতে পারব—এটাই আমাদের বড় স্বস্তি। আগে বৃষ্টি হলেই ধান নষ্ট হয়ে যেত, এখন আশা করছি জমি আর ডুবে থাকবে না।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদের মাধ্যমে ঘুড়কা এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের গর্বিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অবৈধ বাঁধ নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন