খাইরুল ইসলাম
সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার ভবন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় তিনি বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল আমাকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এই আসনে আমিই প্রতিদ্বদ্বিতা করবো।
তিনি বলেন, ২৪’র গণঅর্ভূত্থানের মধ্য দিয়ে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। দেশ এখন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় আছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। সে মোতাবেক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমি চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। এসময় তিনি আরও বলেন, দেশের এক শ্রেণির স্বার্থান্বেসি মহল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করে আগামী ফ্রেব্রুয়ারির ১২ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অবাধ, সুষ্ঠ, এবং নিরপেক্ষ। তিনি আশা করেন এবারের নির্বাচনে দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ ভোট দিতে যাবে। বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের ৪ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনেই সর্বপ্রথম দুটি ব্যালট থাকবে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবং অপরটি গণভোটের। এই গণভোটে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত হ্যা’র পক্ষে বলা। হ্যা’র পক্ষে ভোট দিলে কি হবে সেটা আমরা ভোটারদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। হ্যা বিজয়ী হলে কি হবে সেটা আমার মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করছি যে, হ্যা বিজয়ী হলে প্রতি ৫ বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত হ্যা বিজয়ী হলে এখন যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ টি আসন আছে সংরক্ষিত মহিলা আসন আছে এবং উচ্চকক্ষে ১০০টি আস আছে। এতে করে লাভ হবে নিরুংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ক্ষমতাসীন দল যেনো তাদের ইচ্চেমতো সংবিধান সংশোধন করতে না পারে। আমি মোটা দাগে এগুলোই বুঝি আরও অনেক সুবিধা আছে।
জেলা বিএনপির এই সভাপতি বলেন, আমি বিজয়ী হলে এবং আমার দল ক্ষমতায় আসলে আগামীতে এই জেলাতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার চেষ্টা করবো। তাছাড়া জেলার হাসপাতাল গুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করবো। এছাড়া দুর্ণিতি, সন্ত্রাষ চাঁদাবাজের বিষয়ে কোন আপোষ করবো না। আমি আশা করছি। গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশের মানুষ শুধু চুয়াডাঙ্গা-২ আসন নয় দেশের সব আসনেই যেনো ধানের শিষে ভোট দেন। আমাদের দলের নির্দেশনা আছে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই আমরা নির্বাচন করবো। এসময় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় যেনো নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে এজন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাসুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোমিন মালিতা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
মন্তব্য করুন