গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গোপালগঞ্জ-৩ (২১৭) আসনে—টুংগীপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত—আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এই আসনে এখন মোট ৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী তিন প্রার্থী হলেন—
জামায়াতে ইসলামীর রেজাউল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আরিফুল দাড়িয়া এবং খেলাফত মজলিসের আলী আহমেদ।
মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে যে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন, তাঁরা হলেন—
এস. এম. জিলানী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি), প্রতীক: ধানের শীষ; মারুফ শেখ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), প্রতীক: হাতপাখা; শেখ সালাউদ্দিন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি—এনএনপি), প্রতীক: আম; আবুল বাশার দারিয়া (গণঅধিকার পরিষদ), প্রতীক: ট্রাক; এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব (স্বতন্ত্র), প্রতীক: ফুটবল; গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক (স্বতন্ত্র), প্রতীক: ঘোড়া; আব্দুল আজিজ মাক্কী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), প্রতীক: রিকশা এবং দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস (গণফোরাম), প্রতীক: সূর্য।
২১ জানুয়ারি দুপুরে গোপালগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেন। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ছয়জন দলীয় ও দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়া জুড়ে নির্বাচনী তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দেওয়া হচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের হিসাবকে জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত যিনি ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকবেন, তিনিই জাতীয় সংসদে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।