উওম দাস
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন এবং ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা শুনা যাচ্ছে, বিশেষ করে টেলিভিশন টকশোতে খুব বেশি বাজে কথা হয়, সে জন্য টেলিভিশন দেখা ছেড়ে দিয়েছি।সরকারি কর্মকর্তাদের যেমন ট্রেনিং করানো হয়। ঠিক সেই ভাবে জনপ্রতিনিধিদের ট্রেনিং করানোর দরকার। আমাদের দেশের একটা কালচার আছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অপজিট পার্টি বা হেরে যাওয়া দল ও সাংবাদিকদের বিপজ্জনক সময় পার করতে হয়। তবে আমরা সম্পূর্ণ আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবো এবং যত দ্রুত সম্ভব তথ্য আদান প্রদান করতে হবে, যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটতে পারে।
এসময় তিনি আরও বলেন, ৫০ বছর বয়সে ভোট দিতে পারিনি, ভালো হোক মন্দ হোক শুধু নির্বাচনের কাজ করে গিয়েছি। তবে এবার সরকার পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।এবার ভোট দিতে পারবো।
গণভোট সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, গণভোটে আপনি অংশ গ্রহণ করবেন। কারণ পরিবর্তন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। আমাদের অবশ্যই গণভোট দিতে হবে। কারণ আমরা পরিবর্তন চাই। সরকার আমাদের কে বলছে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করতে আমরা করছি। গণভোটের পক্ষে ভোট দিলে আমরা সেফ থাকবো, আপনারা সেফ থাকবেন, তাই আমরা গণভোটে ভোট দিবো। এবারের নির্বাচনে দু'টি ভোট এক সাথে অনুষ্ঠিত হবে, তাই আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেনঞ্জ। প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। প্রত্যেকটি প্রিজাইডিং অফিসারকে ম্যাজিস্ট্রেটেসি পাওয়ার দেওয়া থাকবে। কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ লেবেল প্লেয়িং ফিল্ট থাকবে, কোনো প্রকার আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। সবাই মিলে আমাদের ওভারকাম করতে হবে। এছাড়াও কাপাসিয়া উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার তামান্না তাসনীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার আওলিয়া, কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের হোসেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার তামান্না রশীদ, বিআরডিবি (পল্লী উন্নয়ন) কর্মকর্তা দিলারা মনি সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।