মনির আহমদ আজাদ
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার আরকান সড়কে লবণ ও বালুবাহী ভারী ট্রাক থেকে ঝরে পড়া পানির কারণে সড়ক মারাত্মকভাবে পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। এর ফলে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, যা জনজীবনে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এবং ভোরের দিকে সড়কে জমে থাকা এই লবণাক্ত পানি ও বালুর আস্তরণ চালকদের জন্য অদৃশ্য ফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লবণবাহী ট্রাকগুলোতে পর্যাপ্ত ঢাকনা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাক চলাচলের সময় পানি ও বালু সড়কে ঝরে পড়ে। এতে করে সড়কের পিচ্ছিলতা বেড়ে যায় এবং দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে কক্সবাজারমুখী পর্যটকবাহী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো। ফলে প্রায়ই জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী শহর এলাকায় একটি লবণ ও বালুবাহী বড় ট্রাক চলাচলের সময় থামিয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। লোহাগাড়া বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ট্রাক চালককে সড়ক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শহর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লবণ ও বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা জনস্বার্থে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লবণবাহী ট্রাকগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ঢাকনা ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তা না হলে পর্যটননির্ভর এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে নিরাপদ রাখতে।
মন্তব্য করুন