মোঃ রাতুল হাসান লিমন
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের সামনে পরিচয় প্রকাশ হলে আবেগঘন হয়ে ওঠে রায়েরবাজার কবরস্থানের পরিবেশ।
রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে আটজন নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে সিআইডি। রোববার (৫ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
তিনি জানান, মরদেহ উত্তোলনের জন্য আবেদন করা নয়টি পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর জানার পর অনেক স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা স্বজনদের ভাগ্য জানতে অপেক্ষায় ছিলেন তারা।
সনাক্ত হওয়া নিহত ব্যক্তিরা হলেন— ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার মো. মাহিন মিয়া (২৫), শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার আসাদুল্লাহ, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বারোহাটিয়া গ্রামের পারভেজ বেপারী, পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার সাতকাছিনা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার সোহেল রানা, ফেনীর রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফয়সাল সরকার এবং ঢাকার মুগদা এলাকার কাবিল হোসেন (৫৮)।
সিআইডি সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে রায়েরবাজার কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রায়েরবাজার কবরস্থানে উপস্থিত স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। অনেকে জানান, এতদিন ধরে শুধু অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন তারা।
সিআইডি প্রধান আরও বলেন, এখনো একজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ বিশ্লেষণসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে।