আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক মাঠে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থীকে সামনে রেখে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর টানাপোড়েনে সৃষ্টি হয়েছে নেতৃত্ব সংকট ও নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা। জামায়াতে ইসলামী দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাবেক সংসদ সদস্য ও প্যানেল স্পিকার শাহজাহান চৌধুরীকে একমাত্র দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে এককভাবে কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একক প্রার্থীর কারণে সাংগঠনিকভাবে জামায়াত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ভোটের মাঠে ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিতে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলীয় হাইকমান্ড একক প্রার্থী হিসেবে নাজমুল আমিনকে মনোনয়ন দিলেও মনোনয়নবঞ্চিত আরও দুই নেতা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এতে করে দলের ভেতরে প্রকাশ্য বিভাজন তৈরি হয়েছে, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়া দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এতে করে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই দ্বন্দ্বের সুযোগ প্রতিপক্ষ দলগুলো কাজে লাগাতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় দলীয় ঐক্য নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একাধিক প্রভাবশালী নেতা সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ বলয় ও অনুসারীদের নিয়ে প্রচার-সংগঠনে ব্যস্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত কোনো একক নেতৃত্ব বা প্রার্থীর বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসেনি। ফলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী কর্মীরা প্রার্থী বিভাজনের কারণে দিশেহারা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যদি দল একক প্রার্থী ও সুস্পষ্ট নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়তে পারে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব সংকট বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো যখন একক প্রার্থী ও সংগঠিত কাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে, তখন বিএনপির এই বিভাজন ভোটের সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, দলীয় হাইকমান্ড সময়মতো হস্তক্ষেপ করে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থী ঘোষণা করবে এবং বিভক্ত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের একক প্রার্থী কৌশল তাদেরকে মাঠে স্পষ্ট সুবিধা দিচ্ছে। বিপরীতে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলীয় ঐক্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটারদের কাছেও বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই বিভাজনের রাজনৈতিক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সার্বিকভাবে বলা যায়, একক সিদ্ধান্ত ও দলীয় ঐক্যের কারণে জামায়াত যেখানে এগিয়ে থাকার বার্তা দিচ্ছে, সেখানে বিএনপিতে প্রার্থী সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন