মোঃ শাহ্ আলম
গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র শীত মৌসুমে ভ্রমণপিপাসুদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শীতের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
গারো মা ভিলেজের কর্তব্যরত কর্মচারী আতিকুর রহমান ও পাহাড়ি রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ী জাকারিয়া জানান, শীত মৌসুমে ধীরে ধীরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী তারা। দীর্ঘদিন দর্শনার্থীর অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই পর্যটক আসলেও শীত মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্কে এখন প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রুফওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবলকার, প্যাডেল বোর্ড, সাম্পান নৌকা ও ঝর্ণাধারাসহ নানা আকর্ষণীয় রাইডস ভ্রমণপিপাসুদের মন কেড়েছে।
পাশাপাশি বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে ওঠা মধুটিলা ইকোপার্কেও রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোর্ডসহ বিভিন্ন বিনোদন ব্যবস্থা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে রিসোর্ট ও ক্যাফে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, ট্রাক, মিনিবাস, লেগুনা, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন পর্যটন কেন্দ্রে। এর মধ্যে অটোরিকশা, লেগুনা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে আসা দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন,
“শীত উপলক্ষে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। অনেক লোকজন হয়েছে। প্যাডেল বোর্ডে উঠেছি, দারুণ মজা পেয়েছি।”
জামালপুর থেকে আগত রফিকুল ইসলাম বলেন,
“সবুজে ঘেরা গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দিয়েছে। আগের তুলনায় নতুন নতুন রাইডস যুক্ত হওয়ায় আরও বেশি ভালো লাগছে।”
ময়মনসিংহ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা কলেজ শিক্ষার্থী নীরব মিয়া জানান,
“বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসেছি। অনেক রাইডে উঠেছি, কেনাকাটাও করেছি। সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা।”
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা মারুফা আকতার বলেন,
“প্রতি বছরই পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হই। এবার গজনীতে এসে গারো পাহাড়ের
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি।”
তবে মধুটিলা ইকোপার্কে প্রবেশ ফি আগে ১০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে—এ নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে অভিযোগও শোনা গেছে।
স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, পর্যটকের কারণে তাদের বিক্রি বেড়েছে।
পর্যটন কেন্দ্রের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ফরিদ আহম্মেদ বলেন,
“শীত মৌসুমে পর্যটকের যে সমাগম দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে এবার ভালো ব্যবসার আশা করছি।”
মন্তব্য করুন