তানভীর আজাদ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। তৃণমূলের একাংশের বিক্ষোভ ও পরিবর্তনের দাবি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত 'পরীক্ষিত' মুখগুলোর ওপরই আস্থা রেখেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পাওয়ার মাধ্যমে দৌলতপুর, মিরপুর-ভেড়ামারা, সদর এবং কুমারখালী-খোকসা আসনে ধানের শীষের কাণ্ডারিরা এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। প্রাথমিক তালিকার কোনো পরিবর্তন না আসায় এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো এক্সপেরিমেন্ট নয়, বরং অভিজ্ঞদের দিয়েই বৈতরণী পার হতে চাইছে বিএনপি ।
চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন—কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ও জাকির হোসেন সরকার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর দলে আর কোনো বিভেদ থাকবে না এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য যে, প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই কুষ্টিয়ার একাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-২ আসনে সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম, ৩ আসনে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এবং ৪ আসনে নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিকের অনুসারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাটকীয় পরিবর্তনের আশায় থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে।
চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোই এখন বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা যদি শেষ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকেন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, তবে ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে।