জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 9-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

টিকটকে প্রেম, গোপনে বিয়ে ,বাড়িতে ঢুকতেই শাশুড়ির বাধা

জুনাঈদ আল হাবিব 

টিকটকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম—আর সেই সম্পর্কের আট মাস পর গোপনে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকতে এসে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে কিশোরগঞ্জের ওই তরুণীকে।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের রুমন মিয়া (২১) প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয়ের সূত্র ধরে তৈরি হয় প্রেম। গত অক্টোবরে গোপনে বিয়েও করেন তারা। বিয়ের কয়েকদিন পর রুমন নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান।

তরুণীর দাবি, বাড়িতে যাওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই তার ওপর নানা জুলুম শুরু হয়। পরে রুমনের পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ডেকে দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে পাঠান। বিয়ের কাগজপত্র না থাকায় থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই ইউপি সদস্য ও রুমনের পরিবার তরুণীকে তার বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠান। তখন ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম তাকে আশ্বস্ত করে বলেন—প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আনলে বিষয়টি তিনি দেখবেন।

তার ধারাবাহিকতায় আজ (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে স্ত্রী-অধিকার দাবি নিয়ে বিয়ের কাগজপত্রসহ রুমনের বাড়িতে যান ওই তরুণী।

জটিল পরিস্থিতি:

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িতে প্রবেশ করতেই রুমনের মা মিনা খাতুন তর্ক-বিতর্কে জড়ান এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে তিনি ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং তরুণীকে ভেতরে ঢুকতে দেননি। তরুণী অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে বারান্দায় চেয়ার এনে বসে থাকেন।

তরুণীর অভিযোগ,

“রুমন আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। দুইদিন সংসারও করেছি। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে পাঠান এবং নানা বলে বাড়ি নিয়ে যান। অনেকদিন অপেক্ষা করার পর আজ আবার এসেছি। এখন মেম্বার বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন—বাড়ি না ছাড়লে বখাটেদের দিয়ে হেনস্তা করবেন। আমি শুধু আমার অধিকার চাই।”

এদিকে রুমন, তার বাবা খোকন মিয়া বা পরিবারের অন্য কোনো পুরুষ সদস্যকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। রুমনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। রুমনের মা মিনা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

“মেয়েটি আমার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে বাড়িতে উঠেছিল। মেম্বার ও পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। আজ আবার এসে ঝামেলা করছে, তাই ঘরে তালা লাগিয়েছি।”

ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম আকন্দ বলেন,

“প্রথমে চেষ্টা করেছিলাম ছেলে-মেয়েকে মিলিয়ে দিতে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখি মেয়েটি সুবিধার না। তাই পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। আজ আবার আসার ঘটনাটি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।”

ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন,

“ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের কাগজপত্র দেখেছি। সঠিকই মনে হয়েছে। সমাধানের জন্য মেম্বারকে বলেছি এবং থানাকে জানিয়েছি। মেম্বার যদি খারাপ ব্যবহার করে থাকেন, তা ঠিক করেননি।”

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রজিত কুমার দাস জানান,

“আগেও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আজকের ঘটনাটি শুনেছি। মেয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আবারও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ভাঙ্গুড়ায় মশাল মিছিল

1

কালিগঞ্জে গরু পেটানোকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত তাণ্ডব

2

ত্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে চরভৈরবী মাছ ঘাট

3

১০ দিনে লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল ভুয়া এনজিও

4

সীতাকুণ্ডে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড

5

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে সেলিম রে

6

মাদারীপুরে ১০ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ

7

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

8

কক্সবাজার মডেল প্রেস ক্লাবের আত্মপ্রকাশ

9

মানিকগঞ্জ–৩ আসনে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী পরিবর্তনের জোর দাবি

10

বগুড়া শেরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের ভবনে গভীর রাতে আগুন দিয়েছে

11

নোয়াখালীতে ডাকাতির সময় গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

12

বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে ঝালকাঠিতে ধানের শীষের গণসংযোগ

13

শেখ হাসিনার সাথে হত্যা মামলার আসামী ছাত্রদল নেতা

14

রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ডিগ্রি কলেজে আন্ত বিভাগ ফুটবল

15

ছাতা প্রতীকে বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের ঘোষণা

16

ঝিনাইদহে বিয়ে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষ

17

ন‌ওগাঁর নিয়ামতপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণকা

18

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় নারীর মরদেহ দেখাল বাংলাদেশী

19

কোটালীপাড়ায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন

20