মোঃ ফখরুল মোস্তফা
নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮/১০জন।
নিহতরা হলেন উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহি উদ্দিন এর ছেলে মোঃ আলা উদ্দিন, জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এর চাদু মাঝির ছেলে মোঃ সামছু, তার ছেলে সিহাব, ও একই এলাকার কাশেম ও আলা উদ্দিন মাঝি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নতুন জেগে উঠা জাগলার চরের জমি সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে বন্দোবস্ত দেয়নি। এ সুযোগে ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী জাগলার চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। কিছু দিন পর পাশ্ববর্তী সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী জাগলার চরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে গত দুমাস ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। এতে সামছু চরের দক্ষিণ পাশে চরকিং ইউনিয়নের সীমানায় আর উত্তর পাশে সূখচর ইউনিয়ন সীমানায় অবস্থান নেয় আলাউদ্দিন গ্রুপ।
একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে চরের জমি বিক্রি শুরু করে। ইতিমধ্যে অনেক লোক তাদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে চাষের পক্রিয়া শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, চর দখলে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়নের স্থানীয় অনেকের সহযোগিতায় চরদখলের কাজে যুক্ত হয়।
তারা কোপা সামছু বানিহীকে চর থেকে বিতাড়িত করে চরের জমি দখলে নিতে ডাকাত আলাউদ্দিনের বাহিনীর উৎসাহিত করে। এ নিয়ে দুটি গ্রুপ একাধিকবার বিরোধে জড়ায়। একই ভাবে চরকিং ইউনিয়নের কিছু স্থানীয় লোকজন সামছুকে চর দখলে সহযোগিতা করেছিল।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
এতে অপর পক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিন আহত হলে তাকে নোয়াখালী জেলা সদর হসপিটালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কোপা সামসু, তার ছেলে সহ আরো চারজন। বিকালে পুলিশ নদী পার হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই চারজনের মৃত্যুদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
রাতে নিহতদের মৃতদেহ থানায় আনা হলে অনেকে এসে ভীড় করেন। এসময় নিহতদের স্বজনদেরকে কান্না কাটি করতে দেখা যায়।
তবে গোলাগুলিতে অনেকে আহত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, একটি মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের সবাইকে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেলা সদর হসপিটালে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।