মোঃ মশিউর রহমান
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কর্মকাণ্ড ও তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বগুণে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ঐক্যের বন্ধন’ এর উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ১নং বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর হচুপাড়া গ্রামে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সংগঠনের সদস্য, যুবসমাজ ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। সভার শুরুতেই সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
সভায় যাঁরা বক্তব্য রাখেন
সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা সালামত উল্লাহ, সভাপতি জামিউল ইসলাম জামু, সহ-সভাপতি আলী হোসেন বাবু ও আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক শাওন সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মাজেদুল ইসলাম, সহ-কোষাধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রহিম, এবং অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
প্রত্যেক বক্তাই ‘ঐক্যের বন্ধন’-এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকলের সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সভাপতি জামিউল ইসলাম জামুর বক্তব্য
সভাপতি জামিউল ইসলাম জামু তাঁর বক্তব্যে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন—
“ঐক্যের বন্ধন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য শুধু সামাজিক উন্নয়ন নয়, বরং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা। মানুষ মানুষকে সহযোগিতা করবে—এই মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান কাজ। আমরা কারো বিপদে শুধু পাশে দাঁড়াতে চাই না, বরং সমস্যার সমাধানের পথও দেখাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন—
“এ এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ বা যে কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষকে আমরা কখনো একা ফেলে রাখবো না। আমরা চাই সবাই জানুক, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি পরিবার—ঐক্যের বন্ধন—সব সময় সক্রিয় আছে।”
মাদক, সন্ত্রাস, সামাজিক অপরাধ ও অসামাজিক কাজে যুবসমাজের জড়িয়ে পড়া রোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক নেতৃত্বগঠনে যুক্ত করতে আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সভায় অন্যান্য বক্তাদের মতামত
বক্তারা বলেন—
“ঐক্যের বন্ধন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।”
তাঁরা আরও জানান, সমাজের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতায় সংগঠনটি অগ্রসর হবে। বক্তারা স্থানীয় তরুণদের উদ্দেশে বলেন—
“মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে একতা প্রয়োজন। ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করলে আমরা সত্যিকার অর্থে উন্নত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারবো।”
সভা শেষে সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সভায় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয় এবং সেগুলোর সমাধানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যেমন—
অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা বৃদ্ধি
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি
মাদকবিরোধী প্রচারাভিযান
শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা কর্মসূচি
বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
যুবকদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করা
এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে সংগঠনটি আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উপসংহার
উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় জনগণ সংগঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন ইতিবাচক কার্যক্রম চলমান রাখার আহ্বান জানান। মানবিক সমাজ গঠনে ‘ঐক্যের বন্ধন’ সংগঠনটি পার্বতীপুর এলাকায় এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠবে বলে সভায় উপস্থিত সবাই আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন