মাহমুদুল হাসান।।
বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে খেয়াঘাট ও বালু মহল নিয়ে উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর (মেম্বার) একটি ফেসবুক পোস্টে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েলকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জুয়েল অবৈধভাবে সন্ধ্যা নদী থেকে বালি উত্তোলন করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং ছাত্র-জনতার ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ৮০ লাখ টাকা দিয়ে বরিশালে একটি বাড়ি কিনেছেন।
উক্ত পোস্টের কমেন্টে পাল্টা জবাব দেন হাবিবুর রহমান জুয়েল। তিনি দাবি করেন, বালু মহল থেকে তিনি কোনো অতিরিক্ত টাকা নেন না; বরং ৫ বছর আগের নির্ধারিত রেটেই লেনদেন করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীর বালু মহলের তিনি মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ারধারী। তবে একই সঙ্গে তিনি আব্দুস সবুর মেম্বারকেও খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ তোলেন।
কমেন্ট যুদ্ধে অংশ নেন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সালামও। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করে লিখেন, “৫ তারিখের পরে আমরা যে যা আকাম-কুকাম করছি সেগুলো পাবলিকলি না বলে চেপে যাও দোস্ত সবুর।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নির্দেশে দিয়েছেন বানারীপাড়া খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ভাড়া ৬ টাকা এবং মোটরসাইকেল পারাপার ভাড়া ২০ টাকা আদায় করা হয়। যেখানে জনপ্রতি ভাড়া আদায় করা হতো ৮ টাকা এবং মোটরসাইকেল ৪০ টাকা।
ছাত্রদল নেতা সাগর মাঝি এই পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট শেয়ার করে নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, নেতাদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতাদের বহু অবৈধ ইনকামের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসছে।