Mst: Meherun Nesa
প্রকাশঃ 18-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গলাচিপায় আমন উৎপাদনে রেকর্ড

 

পলাশ হাওলাদার 

বরিশালের বৃহত্তম শস্যভাণ্ডার গলাচিপায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। সব ঠিক থাকলে গলাচিপা উপজেলাতেই কৃষকরা প্রায় ৬ শ’ কোটি টাকার আমন ধান বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।

প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে এবছর উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অতিবর্ষণ, বীজ পঁচে যাওয়া এবং জোয়ারের পানিতে বীজতলা প্লাবিত হয়ে নষ্ট হওয়ায় শুরু থেকেই শঙ্কায় ছিলেন কৃষকরা। তারপরও প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ মুহূর্তে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তারা। পটুয়াখালীর আট উপজেলার মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি আমন ধান উৎপাদন হয়েছে গলাচিপায়ই।

এ বছর ৬৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য ধরা হলেও চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫ হেক্টরে। জমির পরিমাণ কম হলেও উৎপাদন বেশি-এ খবরে আনন্দিত স্থানীয় কৃষকরা। জমি কমে যাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা এখন তরমুজ চাষে বেশি আগ্রহী। আগাম তরমুজ তুলতে পারে বলে অনেকে ধান চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।”

রোপা আমনের শুরু থেকেই একের পর এক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। দুটি দফা অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয় বীজতলার। অনেকেই পর্যাপ্ত বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। তারপরও শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমের মূল্য পেয়েছেন তারা-মুখে ফুটেছে বিজয়ের হাসি।

গলাচিপা ইউনিয়নের কৃষক, মো. ইদ্রিস হাওলাদার  বলেন, “সাড়ে এগারো একর জমিতে ধান করেছি। প্রতি মন ধানের দাম এখন ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা। উৎপাদন খরচ মনপ্রতি প্রায় হাজার টাকা বেশি হলেও খুশি যে কোনো দুর্যোগ ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।”

ইতোমধ্যে আগাম আগাম প্রাজিতর ধান বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে বাজার দর গেছে নিচের দিকে। প্রতি মন ধান ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও আড়তদাররা ধান কিনতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

গলাচিপার আড়তদার শ্রীকৃষ্ণ পাল বলেন, “গত বছর এ সময় প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই লাখ মন ধান বিক্রি হতো। এবার হচ্ছে দেড় লাখ মন। ফলন বেশি হওয়ায় ধানের দামও কমেছে। গত বছরের তুলনায় অন্তত ১০০ টাকা কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে।”

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান জানান, “ফলন বেশি হওয়ায় এবং একসাথে বাজারে ধান উঠায় দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমান দরে ধান বিক্রি করলে প্রায় ৪৮ হাজার কৃষক পরিবার লোকসানের মুখে পড়বে। তবে সমন্বিত চাষাবাদ ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নওগাঁর রাণীনগরে ইট ভাটা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

1

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর ম

2

তীব্র শীতের মাঝেই কুয়াশা-বৃষ্টির দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

3

শার্শায় এসএসসি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

4

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতি বৃষ্টির কারণে জেলার জনজীবন ও ফসলের ব্যাপ

5

কমলগঞ্জে বাড়ির পাশে যুদ্ধকালীন গ্রেনেড, এলাকা ঘেরাও

6

টাংগাইলের নাগরপুর ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সমাবেশ

7

শার্শায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

8

এক বছর আগে সুইমিংপুলে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর তদন্ত দাবি

9

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য হত্যা

10

রায়গঞ্জে বিএনপি’র গণমিছিল

11

জামিন থেকে বেরিয়েই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার নেতৃত্বে বিএনপির নে

12

দোহারে ২৬৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ জন

13

একনেকে অনুমোদন পেল নোবিপ্রবির ৩৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প

14

এবার দ্রুত ইরান ছাড়তে নাগরিকদের নির্দেশ দিল ফ্রান্স ও কানাডা

15

নারীর ক্ষমতায়ন সৃষ্টি করছে তারেক রহমান’ নিপুন রায় চৌধুরী

16

গোপালগঞ্জ জেলার -নৈয়ারবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী"শ্রী শ্রী কার্তিক মে

17

পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার

18

শেখ হাসিনার রায় নিয়ে নাশকতা ঠেকাতে নিয়ামতপুরে বিএনপির অবস্থা

19

ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

20