জাহাঙ্গীর আলম
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অবমাননার অভিযোগ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল–২ সংসদীয় আসনে নির্বাচন আচরণবিধি প্রকাশ্যে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি কোনোভাবেই মানছেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকরা প্রশাসন, এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতিও চরম অবমাননাকর আচরণ করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে তারা প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজেও একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি যদি না বলি, তাহলে এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন না”— এমন বক্তব্য একজন ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া তার সমর্থকদের নিয়ে প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্যে অবজ্ঞাসূচক আচরণ এবং শক্তি প্রদর্শনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে— এ ধরনের আচরণ আসলে কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে? প্রশাসনের চোখ রাঙিয়ে নির্বাচনী মাঠে এমন উশৃঙ্খলতা কি পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে?
উল্লেখ্য, এর আগেও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও হরসপুর ইউনিয়নে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম চলাকালে অনুরূপ অশৃঙ্খল আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই একই ধরণের আচরণ সরাইল–২ আসনেও পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কেন দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? কেন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা সতর্কবার্তা গণমাধ্যমে আসছে না? নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সরাইল–২ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন