সুমন আহমদ খান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (মাদক অধিশাখা) যুগ্ম সচিব এ. এফ. এম. এহতেশামূল হক বলেছেন, “এলোমেলো মাদকদ্রব্য সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুল-কলেজের ২০০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য রাখা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এজন্য প্রধান শিক্ষকরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। প্রতিটি পরিবারকে সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হতে হবে, সাইকোলজিস্টের মতো শুনতে জানতে হবে। চিকিৎসার মাধ্যমে যারা সুস্থ হয়েছেন, তাদেরকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।”
গতকাল রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয় সিলেটের আয়োজনে অভ্যন্তরীণ সেবা প্রত্যাশীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা) পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার এবং সিলেট বিভাগের উপপরিচালক মলয় ভূষণ চক্রবর্তী।
এ সময় বক্তব্য দেন রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা ও সাইকোলজিস্ট তিথি ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাদক নিরাময় কেন্দ্র, হাসপাতালের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিব, চিকিৎসক এবং মাদকাসক্ত রোগীর অভিভাবকরা।
এছাড়াও নিরাময় কেন্দ্র ‘নিউ প্রশান্তি’, ‘আহবান’, ‘সূর্য’, ‘বাধন’, ‘হেভেন’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘প্রতিশ্রুতি’, ‘আদর’, ‘প্রত্যাশা’, ‘স্পন্দন’, ‘প্রেরণা’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।