মোঃরফিকুল ইসলাম
হিমালয়ের পাদদেশের নিকটবর্তী সীমান্তঘেঁষা উপজেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা নিম্নমুখী হওয়ায় এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ (রোববার) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঘন কুয়াশা আর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ৯৯ শতাংশ হওয়ায় শীতের অনুভূতি অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে কনকনে ঠান্ডা থেকে নিস্তার পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
জনজীবনের প্রভাব:
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার সদরসহ ধরলা ও বারোমাসি নদী অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তীব্র ঠান্ডার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না। অটোরিকশা চালক ও ভ্যানচালকদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। চরাঞ্চলের গবাদি পশুগুলোও শীতের প্রকোপে কাবু হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা:
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার ও ঘন কুয়াশা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য:
ধরলা নদীর পাড়ের বাসিন্দা আজাহার আলী (৭৫) জানান, "এবারের শীত হাত-পা অবশ করে দিচ্ছে। সকালবেলা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারপাশ, বাড়ির বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।"
প্রশাসনের তৎপরতা:
এদিকে শীত মোকাবিলায় সরকারিভাবে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে দুর্গম চরাঞ্চলের শীতার্তদের সহায়তায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন