এম কে ভুইয়া সোহেল পৌষ মাসের শেষের দিন বাঙালি সংস্কৃতিতে সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাঙালির সংস্কৃতিতে বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি পার্বণ হলো পৌষ সংক্রান্তি। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলা যুগ যুগ ধরে পালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিতকায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পৌষ সংক্রান্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি)তিনদিন ব্যাপী অধিবাস,নাম এবং লিলাকির্ত্তনসহ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাপড়াবিলের (লোকমুখে পরিবর্তিত বাসুলিয়া) সৌন্দর্য্যরে রানী হিজল গাছের আঙিনায় পালিত হয়েছে শতবছরের ঐতিহ্যের ধারক পৌষ সংক্রান্তি মেলা।
সরেজমিনে মেলায় ঘুরে দেখা গেছে,পাশর্^বর্তী উপজেলা সখিপুর,মির্জাপুর,কালীহাতিসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে চাপড়াবিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শত বছরের সিদ্ধেশ্বরী হিজল গাছটির আঙিনা। বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষসহ শিশু-কিশোরের ভিড়ে কোলাহল মূখর হয়ে পড়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।
মেলাকে কেন্দ্র করে বসেছে বাতাসা, দই, মিষ্টির দোকান, ভাজা পেয়াজো, জিলাপী, চানাচুর, বাদাম, মাটির তৈজষপত্র, বাঁশ বেতের তৈজষপত্র, চটপটির দোকান, শীত বস্ত্রের দোকানসহ ধর্মীয় বিভিন্ন পোষ্টার,ষ্টিকার,ব্যাজ ও মানত সুতার দোকান।
কালিহাতী উপজেলা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা ষাটোর্ধ বিরান সরকার বলেন, প্রতি বছর এই মেলা পৌষ মাসের শেষের দিন অনুষ্ঠিত হয় শুনে আসছি। আমাদের এলাকার অনেকই আসে। এবার মানত নিয়ে আমিও এসেছি।
মেলায় ঘুরতে আসা দীপালী দাস বলেন, চাপড়াবিল তথা বাসুলিয়ার হিজল গাছের আঙিনায় যুগ যুগ ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছোট সময় জেঠাদের সাথে মেলায় আসতাম আর এখন স্বামী,সন্তান,শশুড়,শাশুড়ী সাথে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি।
শতবছরের ঐতিহ্য এই মেলার নেই কোন কমিটি। সনাতনীদের বিশ^াস আধ্যাতিক ক্ষমতা সম্পন্ন এই সিদ্ধেশ^রী হিজল গাছ । এই বিশ^াসকে বুকে ধারণ করে ওই গাছের পাশর্^বর্তী মিরিকপুর গ্রামবাসী শতবছর ধরে এই মেলা আয়োজন করে আসছে। তবে মেলার আয়োজনে তারা গ্রামের শিক্ষিত এবং প্রবীণদেরকে অগ্রাধীকার দিয়ে আসছেন।
মিরিকপুর গঙ্গাচরণ তপশীলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জগদ্বিশ কর্মকার বলেন,আমার বাপ,দাদাদের মুখে শুনেছি তাদের ঠাকুরদারাও এই হিজলগাছ দেখেছেন।তাদের মুখে শুনেছি আসাম থেকে এক রাতের মধ্যেই এই গাছ এখানে এসেছিলো। তখন থেকে পূর্বপূরুষেরা এই গাছকে ঘিরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার আয়োজন করে আসছে। আমার বাবা,কাকাদেরও দেখেছি এই পৌষসংক্রান্তি মেলা করতে। আমরাও ধর্মীয় রিতী পালন করে আসছি। আনুষ্ঠানিক ভাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয় না। এই মেলা পৌষ মাসের শেষের দিন হয়ে থাকে।