মোহাম্মদ আলী মাস্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে ৩ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা সেতুতে পারাপার হচ্ছে প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্কুল ও কলেজের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা, দেখার কেউ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পারা পারে পড়ে দুর্ঘটনার আশংকায় আতংকে অভিভাবকরা।
উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের নতুনহাটি বোয়ালিয়া খালের উপর জরাজীর্ণ সেতুটির মূল অংশ ভেঙ্গে ২/৩ টি বড় গর্ত হওয়ার পর চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গর্তগুলো ভরাট
হলেও মেরামত হয়নি সেতুটি। তবু ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে লোকজন। নতুনহাটি রউফ শাহী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এই সেতুর উপর দিয়ে পারপার হয় নতুন হাটি, তারাখলা, দেওবাড়িয়া এই তিনগ্রামের ১০ হাজার লোকসহ নিকটবর্তী গ্রাম সমুহের অসংখ্য জনসাধারণ ও পথচারী । স্কুল ও মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী, নারী, বয়োবৃদ্ধসহ এই সেতুর ওপর দিয়ে সকলের চলাচল নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় ইউ,পি সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া জানিয়েছেন ১৯৯৮ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল, বর্তমানে এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যেকোন সময় পুরো সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে এবং ভাঙ্গা সেতুর ওপর পারাপার হতে গিয়ে শিশুসহ আহত হয়েছে কয়েকজন।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মোঃ চাঁদু মিয়া বলেন আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, সেতুটির ভয়াবহতার কারণে এবং সেতু থেকে পড়ে বিকট দুর্ঘটনার সম্ভাবনায় তাকে নিজদায়িত্বে স্কুলে নিয়ে যাই এবং নিয়ে আসি। সাংবাদিক শেখ সিরাজ জানান, আমি প্রায় সময়ই এ রাস্তায় বিভিন্ন কাজে যেতে হয় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী যানবাহনতো দুরের কথা মোটর সাইকেল নিয়ে পার হতেও ভয় লাগে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরাইল উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ তফছির জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি পূনমেরামত/ নির্মাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় রউফ শাহী হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি জাকির হোসেন আলক্বাদরী জানিয়েছেন এলাকার স্কুলও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হয়। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা হামদু মিয়া সরদার জানিয়েছেন তিনগ্রামের লোকজনের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে সেতুটি মেরামত করা জরুরি। নতুনহাটি মোবারক হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুমিনুল হক,দেওবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিউল্লাহ, নতুনহাটি রউফশাহী হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওঃ হাফেজ শরীফ আলক্বাদরী জানিয়েছেন প্রায় ৩ বছর আগে সেতুর উপরের অংশে ভেঙ্গে গর্ত হয়েছিল আর সেতুটির রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। অথচ এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ খবর নেয়নি।
তারা আরো জানিয়েছেন লোকজনের চলাচলের পাশাপাশি ইরি-বোরো মৌসুমে ফসল নিয়ে পারাপার হয়।
চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা এল,জি,ইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে এই সেতুটির নাম প্রেরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন