গাজী মাহমুদ পারভেজ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া গ্রামে একটি ব্যক্তিগত মৎস্য প্রজেক্টে রহস্যজনকভাবে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোররাতের কোনো এক সময়ে এ ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে ঘেরে একের পর এক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখে প্রথম বিষয়টি তাদের চোখে পড়ে। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রতিহিংসা বা পূর্বশত্রুতার জেরে নাশকতা ঘটানো হয়েছে কিনা—এ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে।
মৎস্য প্রজেক্টটির মালিক সিয়াম (২৫), পিতা আবুল হোসেন, জানান—দুই বিঘা আয়তনের এই ঘেরে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাড়েন। সাত মাস ধরে নিয়মিত খাদ্য, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি মাত্র ৩০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছিলেন। বাকি সব মাছ রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগে মারা যাওয়ায় তিনি এখন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত।
ক্ষোভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়াম বলেন,“কী দোষ পাইছি বুঝতেছি না। সাত মাসের পরিশ্রম এক রাতে শেষ। এত কষ্ট করে গড়া সব মাছ মাইরা ফালাইছে। কোনোভাবেই এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না।”
এলাকাবাসীও প্রায় একই মত দেন। তাদের ধারণা—মাছের মরার ধরন ও একযোগে ভেসে ওঠার পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ঘেরে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ ঢালা হয়েছে।
ঘটনার পর সিয়াম দ্রুত থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। একই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন,“আমরা ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বড় রায়পাড়া এলাকায় মৎস্য প্রজেক্টে এমন নাশকতা কী কারণে এবং কারা করেছে—তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। একটি সম্ভাবনাময় যুবকের স্বপ্ন ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।