আল-আমীন জোয়ার্দ্দার
ঝিনাইদহে জাল সনদ দিয়ে চাকরি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে রনি আক্তার(৪০) নামে এক প্রধান শিক্ষককে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার (১৯নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতের বিচারক মো. মাসুদ আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত রনি আক্তার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর নারায়ণপুর পুটিয়া গ্রামের নরুল ইসলামের ছেলে। তাকে সনদ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ , প্রতারণা সহ কয়েকটি অপরাধের দায়ে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি রনি আক্তার গোয়ালপাড়া অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন-সালেহা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিজের শিক্ষক নিবন্ধন ও বিএড সনদপত্র তৈরি করে বিদ্যালয়টিতে চাকরি করছিলেন। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করার সুবাদে নিয়োগ বাণিজ্যসহ স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয় ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর আসামি রনি আক্তার তার সরকারি বেতন-ভাতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর তার শিক্ষক নিবন্ধন ও বিএড সনদপত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত শিক্ষক নিবন্ধন ও বিএড সনদ সহ অন্যান্য কাগজপত্র যাছাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুয়া ও জাল বলে প্রমাণিত হয়। এর ফলে তার সরকারি বেতন-ভাতাও বাতিল করা হয়।
সরকার পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এএসএম রাকিবুল হাসান বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত এই রায় প্রদান করেছেন। সনদ জালিয়াতি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও আদালতে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।
২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর রনি আক্তারের বিরুদ্ধে প্রিন্সিপাল মোশাররফ হোসেন সালেহা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার অর্থ আত্মসাৎ ও জালসনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি রনি আক্তার উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামির পক্ষে অ্যাড তারিকুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
মন্তব্য করুন