মো:মিজানুর রহমান শাহীন
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে ঘিরে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভবন নির্মান ও দীর্ঘদিন ধরে বাসা ভাড়া বাবদ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, কিশোরগঞ্জে চাকুরিরত অবস্থায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি সরকারি বাসা বরাদ্দ নেন।
পরবর্তীতে ওই সরকারি বাসাটি পরিত্যক্ত দেখিয়ে বাসার পাশের সরকারি জায়গায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ওপর ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও গত প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি পরিবারসহ সেখানে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বদলি হলে পূর্বের কর্মস্থলের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে বর্তমান কর্মস্থলে অবস্থান করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঐ ভবনে বসবাস অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১২ হাজার ৭১২ টাকা করে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আসছেন। হিসাব অনুযায়ী, এভাবে গত ২৫ বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে শহিদুল ইসলাম তার পরিবার নিয়ে ওই ভবনেই বসবাস করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কিশোরগঞ্জ, মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জনতার খবর প্রতিনিধি কে বলেন,সরকারী জমির উপরে বাসা করার নিয়ম নেই।আমি বাসা করেছি।আমি যে বাসা করেছি জেলা প্রশাসকের অফিস তা জানে।আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা।একটু হাঁটাহাঁটি করব সব ঠিক হয়ে যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের আলোকে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা প্রশ্ন তুলছেন কোন শক্তির প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য এমন অভিযোগের কোনো সুরাহা হচ্ছে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন