পলাশ হাওলাদার
বরিশালের বৃহত্তম শস্যভাণ্ডার গলাচিপায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। সব ঠিক থাকলে গলাচিপা উপজেলাতেই কৃষকরা প্রায় ৬ শ’ কোটি টাকার আমন ধান বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।
প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে এবছর উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অতিবর্ষণ, বীজ পঁচে যাওয়া এবং জোয়ারের পানিতে বীজতলা প্লাবিত হয়ে নষ্ট হওয়ায় শুরু থেকেই শঙ্কায় ছিলেন কৃষকরা। তারপরও প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ মুহূর্তে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তারা। পটুয়াখালীর আট উপজেলার মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি আমন ধান উৎপাদন হয়েছে গলাচিপায়ই।
এ বছর ৬৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য ধরা হলেও চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫ হেক্টরে। জমির পরিমাণ কম হলেও উৎপাদন বেশি-এ খবরে আনন্দিত স্থানীয় কৃষকরা। জমি কমে যাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা এখন তরমুজ চাষে বেশি আগ্রহী। আগাম তরমুজ তুলতে পারে বলে অনেকে ধান চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।”
রোপা আমনের শুরু থেকেই একের পর এক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। দুটি দফা অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয় বীজতলার। অনেকেই পর্যাপ্ত বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। তারপরও শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমের মূল্য পেয়েছেন তারা-মুখে ফুটেছে বিজয়ের হাসি।
গলাচিপা ইউনিয়নের কৃষক, মো. ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “সাড়ে এগারো একর জমিতে ধান করেছি। প্রতি মন ধানের দাম এখন ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা। উৎপাদন খরচ মনপ্রতি প্রায় হাজার টাকা বেশি হলেও খুশি যে কোনো দুর্যোগ ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।”
ইতোমধ্যে আগাম আগাম প্রাজিতর ধান বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে বাজার দর গেছে নিচের দিকে। প্রতি মন ধান ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও আড়তদাররা ধান কিনতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
গলাচিপার আড়তদার শ্রীকৃষ্ণ পাল বলেন, “গত বছর এ সময় প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই লাখ মন ধান বিক্রি হতো। এবার হচ্ছে দেড় লাখ মন। ফলন বেশি হওয়ায় ধানের দামও কমেছে। গত বছরের তুলনায় অন্তত ১০০ টাকা কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে।”
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান জানান, “ফলন বেশি হওয়ায় এবং একসাথে বাজারে ধান উঠায় দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমান দরে ধান বিক্রি করলে প্রায় ৪৮ হাজার কৃষক পরিবার লোকসানের মুখে পড়বে। তবে সমন্বিত চাষাবাদ ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”