মো. মাহে আলম মাহী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ভোলার চার আসনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন এবং ২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে কয়েকটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল, আপিল নামঞ্জুর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে।
ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের), এনপিপিসহ বিভিন্ন দলের ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন প্রার্থিতা হারান।
আপিল নিষ্পত্তির পর জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) প্রার্থী মো. আকবর হোসাইন বৈধতা পেলেও অপর একজনের আপিল নামঞ্জুর হয়। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভোলা-১ আসনে চূড়ান্তভাবে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন।
ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ৯ জন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন প্রার্থিতা হারান, যাদের আপিলও নামঞ্জুর হওয়ায় তারা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েন।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ভোলা-২ আসনে চূড়ান্ত তালিকায় ৬ জন প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন ও লালমোহন) আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় একজন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েন।
ভোলা-৪ (মনপুরা ও চরফ্যাশন) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ৭ জন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন প্রার্থিতা হারান। আপিল নিষ্পত্তির পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন বৈধতা পাওয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান। ফলে এই আসনে ৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রার্থিতা সংক্রান্ত সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই পরিষ্কার। আগামী দিনে প্রার্থীরা প্রচারণা ও ভোটার সংযোগে আরও সক্রিয় হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।