Mst: Meherun Nesa
প্রকাশঃ 13-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দিল্লির রাজনীতির মারপ্যাঁচে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ছে

বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে দাঁড় করিয়েছে এক নতুন সমীকরণের মুখোমুখি। রাজনীতির অঙ্গন থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—বিভিন্ন ঘটনায় বারবার বাঁক বদলেছে এই সম্পর্ক। তিক্ততার রেশ ছড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের নানা স্তরে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে। তাদের পরামর্শ—কথা ও কাজে দু’দেশকেই আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

মানচিত্রে দিল্লি ও ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। তবে সম্পর্কের সমীকরণে এই দূরত্ব কখনো কমেছে, কখনো বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের পর পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং গত ১৭ মাসে সীমান্তের দু’পাড়ের নানা ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক বারবার রং বদলেছে।

ভিসা ও বাণিজ্য সীমিত করা, রাষ্ট্রদূত তলব, দূতাবাস লক্ষ্য করে বিক্ষোভ কিংবা সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ—সম্প্রতি এমন নানা ইস্যুতে দুই দেশই একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে। এর পাশাপাশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনে উত্তপ্ত রাজনীতির আঁচ গিয়ে লেগেছে খেলার মাঠেও।

ঢাকায় বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি যেমন একটি কারণ, তেমনি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও বাংলাদেশ নিয়ে দেশটির অস্বস্তির বড় কারণ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসী।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পূর্ব ভারতে দলটির পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ ইস্যুকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা এবং বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর—যখন সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ক্রিকেট নিয়ে ভারতের অবস্থান কি দেশটির বাংলাদেশ ইস্যুতে স্ববিরোধী আচরণের বহিপ্রকাশ?

এমন প্রশ্নের উত্তরে দিল্লির জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বর্তমান ভারত সরকার সংখ্যালঘু ইস্যুতে খুবই সংবেদনশীল। পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে—এমন প্রভাব কাজ করাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, রাজনীতির সঙ্গে খেলাধুলার মেলবন্ধন হওয়া উচিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক পছন্দ–অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে জন্য দু’দেশের দায়িত্বশীল মহলের বক্তব্য ও আচরণে আরও পরিমিতিবোধ জরুরি।

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, নতুন যে সরকার আসবে, তার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি। অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি শত্রুতাও নয়। প্রতিবেশী হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এগোতে হবে। ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ভবিষ্যতে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগিয়ে নেয়—সেদিকেই এখন সবার নজর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আলীকদমে বিশেষ অভিযানে ‘ডেভিল হান্ট’ গ্রেপ্তার, আলীকদম সদর থা

1

সাপাহারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা চেয়ে বিএনপির দোয়া মাহফিল

2

টাংগাইলের নাগরপুরে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে চান্সপ্রাপ্ত শ

3

কিশোরগঞ্জে শৈত্যপ্রবাহে কাহিল জনজীবন

4

জমকালো অনুষ্ঠানে Channel S7-এর আত্মপ্রকাশ

5

বেলকুচি তামাই কুঠিপাড়া ও কাজীপুরা সবুজপাড়ার উদ্যোগে বিশাল নি

6

নাসির নগরে দেশনেত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফ

7

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

8

নাসির নগরে ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা ২ লাখ টাকা জরিমানা

9

সাভারে শর্ট পিচ ক্রিকেট ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ

10

বামনায় অভিভাবক সমাবেশ ও গুণীজন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

11

হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে নওগাঁ

12

রাইপাড়ায় বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন, আড়ম্বর নয়, লক্ষ্

13

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলহাজ্ব মতিউর রহমান এর জানাজা

14

ছাতকে বাউল শিল্পীর অকাল মৃত্যুতে শোকাহত ছাতকবাসী

15

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভিভাবকহীন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়ে

16

কবর থেকে মায়ের লাশ তুলে ঘরে লেপ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখল মাদকাসক

17

বানিয়াচংয়ের গোড়াখালী এসই এস ডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন বই

18

অবহেলায় পড়ে আছে মৌলভীবাজারের শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন

19

জায়ান হত্যার ২৪ দিনেও হত্যাকারীর বিচার পেলনা জায়ানের পরিবার

20