মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
বেতন কাঠামো ও পদোন্নতি সংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালনের উদ্দেশ্যে শাহবাগে অবস্থান নিতে গেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষকরা শাহবাগে এসে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষক ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন।
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম এবং ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চিত বোধ করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সমান মর্যাদা দাবি করছেন।
অন্যদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১১তম গ্রেডে বেতনসহ একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন করছে। তারা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়ে দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে পর্যায়ক্রমে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শিক্ষক নেতারা বলেন, “আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ি, অথচ ন্যায্য দাবি জানাতে গিয়ে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ হচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে, পুলিশ দাবি করেছে, “শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা রাস্তা অবরোধ করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
ঘটনাটির পর রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৪টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য করুন