মোঃ রাতুল হাসান লিমন
উত্তর সাগরে (নর্থ সি) অফশোর উইন্ড ফার্ম নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছে নরওয়ে, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসসহ মোট নয়টি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে। এই যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একাধিক দেশের মধ্যে সমুদ্রতলের বিশেষ কেবল (ইন্টারকানেক্টর)
স্থাপন করে বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
ব্রিটিশ সরকারের মতে, এই উদ্যোগ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি সরবরাহকে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করবে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে বিদ্যুতের দাম হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে উত্তর সাগর অঞ্চলে ১০০ গিগাওয়াট (জিডব্লিউ) অফশোর উইন্ড ক্যাপাসিটি অর্জন করা। এর অংশ হিসেবে যৌথভাবে নতুন উইন্ড ফার্ম নির্মাণের পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ বাড়ানো হবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে ১০টি সমুদ্রতল কেবলের মাধ্যমে। ন্যাশনাল গ্রিডের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এসব সংযোগের কারণে ব্রিটিশ ভোক্তারা প্রায় ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছেন।
তবে প্রকল্প নিয়ে কিছু বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, উইন্ড ফার্ম অপারেটররা যদি সর্বোচ্চ দামে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পান, তাহলে সরবরাহ সংকটের সময় দাম বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে নরওয়ের মতো কয়েকটি দেশে উদ্বেগ রয়েছে যে অতিরিক্ত রপ্তানির ফলে দেশীয় বাজারে বিদ্যুৎ
সরবরাহ কমে যেতে পারে। এ কারণে নরওয়ে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গে নতুন ইন্টারকানেক্টরের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ উদ্যোগ ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।