মোঃ রাতুল হাসান লিমন
রিগান ডিফেন্স ফোরামে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন শক্তির ভারসাম্যের সংকেত,
শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী একক ক্ষমতার যুগ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ৬ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালিতে রিগান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের সঙ্গে একটি “ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি–সম্পর্ক” গড়তে চায়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
হেগসেথ জানান, চীনের সামরিক সক্ষমতা “দ্রুত ও ব্যাপকভাবে” বাড়ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের উন্নয়ন থামিয়ে দিতে চায় না। তাঁর ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য আধিপত্য নয়, বরং এমন এক শক্তির ভারসাম্য, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা কোনওভাবেই চীনের দ্বারা চাপের মুখে না পড়ে।”
এর আগের দিন প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল দলিলেও একই সুর পাওয়া যায়। সেখানে চীনকে সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি; বরং পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা ও মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তা জোনাথন চিন বলেন, “এই নথির বেশ কিছু অংশ চীনের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা পড়তে পারে,” এবং সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার দিকে মনোযোগ দিলে এশিয়ায় চীনের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও। তিনি
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র–চীন বৈঠককে “জি–টু সেনারি”—অর্থাৎ দুই পরাশক্তির সমমর্যাদার সংলাপ—হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, “ট্রাম্প আবারও জি–টু ধারণাকে সামনে এনেছেন, যা চীনকে সমমর্যাদার শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জি–টু কাঠামো হয়তো দুই দেশের সরাসরি সংঘাত কমাতে পারে। তবে এর ফলে পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা ব্যয় মিত্রদেশগুলোর ওপর আরও বেশি চাপতে পারে। বক্তব্যে হেগসেথও বলেন, “যেসব মিত্ররা যৌথ প্রতিরক্ষায় নিজেদের ভূমিকা পালন করবে না, তাদের দায়ভার নিজেকেই বহন করতে হবে।” তাঁর এ মন্তব্যকে অনেকেই সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে।
মন্তব্য করুন