পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি হিংস্র কুকুর পথচারীদের ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুরটি রাজাখালী, থানাব্রীজ, পীরতলা বাজার, জলিশা, আনন্দ বাজার, লুথার্ন হেলথ কেয়ার এলাকা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এবং গ্রামীণ ব্যাংক সড়কে দৌড়ে দৌড়ে পথচারীদের কামড়ায়। কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ (১৯), তানিয়া (৩), উজ্জ্বল (২৫), ইউসুফ (৩২), মাহিনুর বেগম (৩৮), মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (২৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), বশির (২০) এবং আ. লতিফ খান (৯৫)। আহতদের কেউ কেউ দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, বাকিরা পটুয়াখালী ও বরিশালে চিকিৎসাধীন।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি হঠাৎ দৌড়ে এসে লাফিয়ে লাফিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ায়। এতটাই হিংস্র ছিল যে সামনে যাকেই পেয়েছে তাকেই কামড়ে রক্তাক্ত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ সরদার বলেন, “পবিপ্রবি আনসার সদস্য ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সহায়তায় কুকুরটিকে আটক করে মেরে ফেলা হয়েছে।”
দুমকী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশিক হাজরা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্থানীয়দের সহায়তায় কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি গৃহপালিত কুকুরগুলোকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জি এম এনামুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত ১৭ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। সরকারি পর্যায়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। রোগীদের স্বজনরা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছেন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে কুকুরটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।