জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 3-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নাসির নগরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী হুক্কা

খ,ম,জায়েদ হোসেন 

এক সময় সাধারণ মানুষের কাছে ধুমপানের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় ছিল এই হুক্কা। যার প্রচলন এখন দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর আগেও আবহমান বাংলার গ্রাম-গঞ্জে ধুমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যামে তামাকপানের নেশায় অভ্যস্ত ছিল।

সে সময় ধনী-গরীব প্রায় সকলের বাড়িতেই হুক্কার প্রচলন ছিল। হুক্কার ব্যবহার এখন আর দেখা যায় না।

এক সময়ের ধূমপানের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘হুঁকা’ বা হুক্কা কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। এখন শহর দূরের কথা, গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও পাওয়া যায় না হুঁকার দেখা। কালের বিবর্তনে অনেকটা হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হুঁক্কা।

হুঁকা বা হুক্কা হলো- কলকেয় রাখা জ্বলন্ত তামাকের ধোঁয়া (ধাতবপাত্রের সঞ্চিত জলের মধ্য দিয়ে শোধিত) সেবনের জন্য ব্যবহৃত দীর্ঘ নলযুক্ত সরঞ্জাম, আলবোলা, ফরসি। নারকেলের খোলে সঞ্চিত জলে শোধিত করে কলকেয় রাখা তামাকের ধোঁয়া সেবনের সরঞ্জামবিশেষ, ডাবা।

তিন-চার দশক আগেও বাংলার গ্রামগঞ্জে ধূমপায়ীরা হুঁকার মাধ্যমে তামাকপানের নেশায় ছিল অভ্যস্ত। সে সময় দেশের প্রায় সব বাড়িতেই ছিল এর প্রচলন।গ্রামের হাট-বাজারে পরসা সাজিয়ে বসে থাকতো দোকানিরা। ক্রেতাগণ যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রয় করতো হুক্কার সামগ্রী।

তখনকার দিনে গ্রাম্য সালিশ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা জমায়েতে ছোটবড় সবাইকে হুঁকায় আপ্যায়নের রীতি ছিল। প্রতিটি গ্রামের প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী বাড়িতে লম্বা পাইপযুক্ত স্ট্যান্ড হুঁকা ওই বাড়ির শোভাবর্ধন ও প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করত। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হুঁকা একটি অপরিচিত বস্তু। এটি খাওয়া দূরের কথা, চোখেই দেখেনি তারা।

বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ হুঁকার জায়গায় বাজার দখল করেছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিনযুক্ত সিগারেট-বিড়ি। প্রজন্মের একটা বড় অংশ নিষিদ্ধ মাদকের নেশায় মাতোয়ারা। অথচ কম নিকোটিনযুক্ত হুঁকার প্রচলন থাকলে যুবসমাজকে মাদক গ্রহণের অধঃপতন থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা যেত।

প্রাচীন বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে তারা জানান ‘তিন-চার দশক পূর্বেও আমাদের বাপদাদারা তিন বেলা খাবার খেতে ততটা আগ্রহী হতেন না যতটা আগ্রহী ছিলেন হুক্কা টানায়। এ ছাড়া তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কল্পনাও করা যেত না। ঘরে চালডাল না থাকলেও যথেষ্ট পরিমাণে জমা থাকত হুক্কার তামুক। তামাকপাতা টুকরা টুকরা করে কেটে এনে এতে চিটাগুড় মিশিয়ে তৈরি করা হতো বিশেষ এ তামুক। এতে নিকোটিনের পরিমাণ অনেক কম থাকে। যতটুকু নিকোটিন থাকে তা নারকেলের টোলে থাকা পানিতে মিশে যায়।’যান্ত্রিক যুগে প্রাচীন গ্রাম্য এ সব ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে অতল গহ্বরে। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইকবালকে বিএনপি’র মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ২২ কিলোমিটার মানববন্ধ

1

সাংবাদিকদের সাথে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী সারোয়া

2

শার্শায় ককটেল বিস্ফোরণে যুবক গুরুতর আহত

3

ভোলায় নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার অভিযোগে জাম

4

বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগছে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়া স্কটল্যান্ডে

5

মুক্তাগাছার দাওগাঁও ইউনিয়নে ফসলি জমি থেকে অবৈধ মাটি কাটার ম

6

বাংলাদেশের বেশির ভাগ কোম্পানিগুলো দেউলিয়ার পথে

7

গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল

8

বিসিক উদ্যোক্তা মেলা ২০২৫ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার দি

9

শান্তিগঞ্জে খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে উন্মুক্ত লটারি

10

সহিংসতা ও বিক্ষোভে আরও চাপে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক

11

বরিশালের চরকাউয়া নয়ানীতে নারী নিখোঁজ, থানায় জিডি

12

অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা

13

ধামরাই এর গর্ব, না ফেরার দেশে চলে গেলেন আ: নূর লিটন

14

আত্রাই সদরে চলাচল অনুপযোগী

15

অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখল

16

দৌলতপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

17

সাপাহার সীমান্তে ভারতীয় ঔষধ ও মদসহ ৩ চোরাকারবারী আটক

18

মাদারীপুরে জামায়াতের এমপি প্রার্থীর সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভায

19

বিজয় দিবসে সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির হাতে সম্মাননা স্মা

20