জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 31-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আনোয়ারায় উদ্ধার দুই শিশুর বাবা পুলিশি হেফাজতে

মোঃ ইমরান

কনকনে শীতের রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দুই শিশুকে ঘিরে যে হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তার নেপথ্যে নতুন পারিবারিক তথ্য উদ্ভূত হয়েছে পুলিশি অনুসন্ধানে।


গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে ৪ বছরের আয়েশা আক্তার ও ১৪ মাস বয়সী মোরশেদকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করে একজন সিএনজি চালক।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, শিশুগুলোকে স্থানীয় মহিম উদ্দীমের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে আনোয়ারা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ শিশুদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেই। চিকিৎসকদের মতে, ছোট শিশুর জন্মগত রোগ রয়েছে, আর বড় শিশুর চর্মরোগ রয়েছে।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পুলিশি অনুসন্ধানে আনোয়ারা থানা তৎপর হয়ে শিশুগুলোর বাবা মো. খোরশেদ আলম (৩৫)কে পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলা থেকে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হেফাজতে নেয়।

শিশুদের বাবা খোরশেদ আলম জানান, তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের কারণে তার স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছিলেন।

খোরশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫-৬ মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে চলে যান এবং কিছু জিনিসপত্র ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যান। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজ পাননি।

তিনি আরও জানান, পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক। কখনো কখনো বাঁশখালীর একটি ভাঙারির দোকানেও কাজ করতেন। তার স্ত্রী ছোট শিশুকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আনোয়ারা ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানান, ইতিমধ্যেই পুলিশের মাধ্যমে শিশুগুলোর বাবার সাথে কথা বলা হয়েছে। তার পিতা-মাতাকে এখানে আসতে বলা হয়েছে। যেহেতু তিনি তার সন্তানকে নিতে চেয়েছেন, সেটি পরে আমরা সিদ্ধান্ত দেব।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, শিশুগুলোর বাবাকে আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিশুগুলো বর্তমানে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আশ্রয়দাতার কাছে রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে ১৪ মাস বয়সী শিশুকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বড় শিশুকে মহিম দম্পতির মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক শিশু দুটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার তদন্ত ও শিশুদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবানের লামায় ৫টি ইটভাটায় অভিযানে, ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা

1

রাজশাহীর হেরোইন বাহক হত্যা মামলায় পুলিশকে বাঁচাতে বিলম্বিত চ

2

মহাদেবপুরে মোটরসাইকেল–অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক গুরুতর

3

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

4

বিখ্যাত শহর ফিলাডেলফিয়া কনভেনশনে 'মুনা কনভেনশন ২০২৫ অনুষ্ঠিত

5

বিএনপি এর নেতা আাসামি, পুলিশের দায়েরকৃত মামলায়

6

সাতক্ষীরায় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের জেলা এ্যাডহক কমিট

7

খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন এক সংগ্রামী নেত্রী-ব্যারিস্টার খোক

8

টুঙ্গিপাড়ায় আরএইচডি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

9

বান্দরবানের আলীকদম সেনা জোন কর্তৃক অসচ্ছলদের অনুদান প্রদান

10

কয়রায় গনধিকার পরিশোধ থেকে উপজেলা সভাপতি সহ ১৬ জন নেতাকর্মী

11

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কুলাউড়ার তরুণী'র মৃ-ত্যু

12

প্রকাশিত হলো লেখক রবিউল বাপ্পীর “ধারালো কলম’’

13

পাবনা থেকে ৯ বছরের শিশু কন্যার মরাদেহ উদ্ধার

14

রাজারহাটে আলোচিত নৈশ্য প্রহরী তপন হ/ত্যাকাণ্ডের ম্যানেজারসহ

15

জ্বরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

16

নোয়াখালীতে দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণ

17

নির্বাচিত হলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবো

18

বেলকুচিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি স্বরণে ফাইনাল ফুটবল টুর্ন

19

ত্রিশালে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

20