ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের মাঠে এবার দেখা গেছে ব্যতিক্রমী সাফল্য—গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে আশাতীত ফলন পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় কৃষকরা। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য হলেও আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় কৃষকেরা এবার অর্জন করেছেন দৃষ্টান্তমূলক ফলন।
আজ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের প্রদর্শনী মাঠ পরিদর্শনে আসেন ঝিনাইদহের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া। তারা মাঠ পরিদর্শন শেষে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ আরও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন,
“গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে আমাদের কৃষকেরা এবার যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে পেঁয়াজ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। নিয়মিত সেচ, রোগবালাই দমন ও উচ্চমানের বীজ ব্যবহারের কারণেই এ ফলন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছি। কৃষকেরা আন্তরিকভাবে তা অনুসরণ করায় আজ তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন। এই সাফল্য চাষে উৎসাহ যোগাবে।”
কৃষকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে লাভ বেশি এবং শ্রম মূল্য তুলনামূলক কম। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়ায় তাদের আগ্রহও বাড়ছে। ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের কৃষকদের এই সফলতা পুরো উপজেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
স্থানীয় কৃষক টিপু সুলতান বলেন,
“আগে ভাবতাম গরমে পেঁয়াজ হবে না। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলাম। এবার ফলন দেখে অত্যন্ত খুশি।”
মন্তব্য করুন