শামীম ইসলাম শামীম
জয়পুরহাটে আলুর বাজারে আবারো ইতিবাচক ধারা ফিরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন দাম কম থাকার পর সম্প্রতি হিমাগারগুলোতে আলু ক্রয়-বিক্রয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হিমাগারে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠছে আলু বাজার।
বর্তমানে হিমাগারগুলোতে ইস্টিক জাতের আলু প্রতি বস্তা (৬০–৬২ কেজি) ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, আর লাল পাকরী আলু ১,০৫০ থেকে ১,১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারের এই তুলনামূলক ভালো দর কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন জানান,
“কয়েক সপ্তাহ আগেও আলুর দাম ছিল বেশ কম। তখন উৎপাদন খরচ তুলতেই চিন্তায় পড়ে যাই। এখন দাম কিছুটা বাড়ায় স্বস্তি পেয়েছি। তবে হঠাৎ বাজার বাড়ার কারণে অনেকে বলছে—হিমাগারে কিছু সিন্ডিকেটের চাপ আছে। আমরা চাই সরকার বাজারটা নজরদারি করুক।”
বাজার বিশ্লেষকদের মতে,
এখন নতুন আলুর মৌসুম শুরুর সময় হলেও বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা আগের মতো সহজে বাজারে আলু ছাড়ছে না। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে পরিবহন ব্যয় বাড়াও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ফলে তুলনামূলক কম সরবরাহের কারণে দামে স্থিতিশীলতা এসেছে।
এদিকে হিমাগার মালিকদের একাংশ জানিয়েছেন—
চাহিদা বাড়ায় ক্রেতারা বেশি দামে আলু কিনতে আগ্রহী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজার গতিশীল হয়েছে। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে নিয়ম মেনে ক্রয়-বিক্রয় করার আহ্বান জানান তারা।
জয়পুরহাট কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,
এ বছর জেলায় আলুর উৎপাদন গত কয়েক বছরের তুলনায় একটু বেশি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, বাজারে চাহিদা ঠিক থাকলে কৃষকেরা এই মৌসুমে ভালো লাভের মুখ দেখবেন।
এদিকে ক্রেতা ও পাইকাররা বলছেন—
বর্তমান দাম বেশি হলেও বাজার স্থিতিশীল থাকলে সমস্যা নেই। কারণ, আলুর উৎপাদন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,
বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক তদারকি এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিলে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়েই উপকৃত হবে।
অবশেষে, বাজারে আলুর দরের বর্তমান এ উর্ধ্বমুখী প্রবণতা জয়পুরহাটের কৃষকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বহুদিন পর তাদের মুখে হাসি ফিরে এসেছে—যা জেলা কৃষি অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা।