জুনাঈদ আল হাবিব
স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পেশাজীবী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশের সঙ্গে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জেও কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে ল্যাব, ডেন্টাল, রেডিওগ্রাফি এবং ফার্মেসি বিভাগের টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা অংশ নেন। ব্যানার হাতে নিয়ে তারা দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। কর্মসূচির শুরু থেকেই কর্মবিরতিস্থলে সচেতনতা ও উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করে।
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় অংশ টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কারিগরি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। অথচ বহু বছর ধরে তারা বেতন-গ্রেড বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। বক্তারা বলেন, আমরা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা সেবা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল কারিগরি দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও সমাধান হয়নি, তাই বাধ্য হয়েই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেমেছি।
আন্দোলনকারীরা জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে। এ ঘোষণায় যদি ১০ম গ্রেড নিশ্চিত না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তাদের প্রধান দাবি— ১০ম গ্রেড অবিলম্বে বাস্তবায়ন , বেতন-গ্রেড বৈষম্য দূরীকরণ, সমমানের অন্যান্য ক্যাডারের মতো মর্যাদা প্রদান, পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, কর্মবিরতি চললেও জরুরি বিভাগ, প্রসূতি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম চালু ছিল। তবে ল্যাব, এক্স-রে এবং ডেন্টাল সেবায় কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানান, আন্দোলনকারীদের দাবি যৌক্তিক হলেও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে জরুরি সেবা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে সারাদেশে একযোগে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকার দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আবু সাঈদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) মোহাম্মদ মানিক মিয়া, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ফার্মাসিস্ট আবদুর রহমান ইসলাম, ফার্মাসিস্ট তুহিনুল ইসলাম, এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।