আনোয়ারল ইসলাম জুয়েল
পল্লী বিদ্যূৎ চিলমারীর ডিজিএম এর সংগে বকেয়া বিল উত্তোলনে জনগনের ভোগান্তি সম্পর্কে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিক তার অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। শুধু তাই নয় সাংবাদিকতা নিয়ে উক্ত সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি তাচ্ছিল্য করেন। বিএনপি মৎসজীবি দলের সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, এর আগে পল্লী বিদ্যূৎ অফিসে স্বেচ্ছাচারী, বদরাগী, চাপাবাজ স্বভাবের এধরণের অত্যাচারী ডিজিএম আমি দেখিনি। তিনি আরও বলেন, উক্ত ব্যক্তি পতিত আওয়ামীলীগের একজন তোষামোদকারী ও সক্রিয় লোক,তা না হলে তার আচরনে এ রকম অসভ্যতা কেন? উক্ত ফকর উদ্দিনের নির্দেশ মোতাবেক কর্মীরা বকেয়া বিল উত্তোলনে নির্বিচারে বিদ্যূৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই চলেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রমানা সাতঘড়ি পাড়ার সাইয়েদুল জানান,তার বাড়ির বিদ্যূৎ বিলে মোট ৩৮৭/- টাকা বকেয়া ছিল, যা পরিশোধের সুযোগ না দিয়েই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। আজ সংযোগ বাবদ ৮২৮/- জমা দিলাম, কিন্তু আজ সংযোগ না দিয়ে আগামীকাল লাগানের কথা বলা হলো। একই গ্রামের শহিদুল
বলেন,আমার বাড়ির বিদূ্ৎ বিলের বকেয়া ৯৪৪/- টাকা,সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ৮২৮/- টাকা জরিমানা দিলাম। গতকাল সবুজ পাড়ার জনৈক ব্যক্তি জানান, আমি গতকাল সকাল ১১ টায় ব্যাংকে বিল জমা দিয়েছি। কিন্তু আমাকে তারা না জানিয়ে দুপুরের পর গোপনে বিদ্যূৎ অফিসের কর্মীরা সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে পালানোর প্রাক্কালে আমার নজরে পড়ে। পরে আমি তাকে সংযোগটি লাগানোর বিষয়ে অনুরোধ জানালেও তারা জরিমানার টাকা ৮২৮/- টাকা অফিসে জমা না দিলে তারা সংযোগ লাগাবেন না। বিদ্যূৎ গ্রাহকগন স্থানীয় রাজশাহী কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক শাখায় বিল জমা দেন। কিন্তু সেই বিলের খবর বিদ্যূৎ অফিসের লোকজন দুই,তিন দিন পরপর নিয়ে যাওয়ায় বিল পরিশোধের তথ্য হালনাগাদ হয়না। সচেতন মহল মনে করেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সূকৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিতেই পল্লী বিদ্যূৎ কর্তৃপক্ষ সংযোগ নামক প্রতারনার ফাদ পেতেছে। অপর দিকে সেচ্ মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের সেচের পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নানান অজুহাতে মুল গ্রাহককে বাধ্যতামূলক উপস্থিত হওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। শান্তি নগর এলাকার সেচ্ পাম্পের গ্রাহক জানান, আমি নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও মিটার খারাপ হয়েছে বলে তা মেরামত করার জন্য খুলে নিয়ে যায় এবং মিটারটি পুনরায় সংযোগের আবেদন করলেও ক্যাশ বিভাগের লুসি অতিরিক্ত তিন মাসের বকেয়ার অজুহাতে ১৬০০০/- টাকা বিল পরিশোধের দাবী করেন। ব্যাপারী বাজার এলাকার আব্দূর রশিদ একজন সেচ্ গ্রাহক। তিনি জানান,আমি নিজে অত্যন্ত অসুস্থ থাকায় আমার ছেলে বিল পরিশোধ করলেও আমাকে বাধ্যতামূলক ভাবে অফিসে আসতে হয়েছে। সাংবাদিক, বিদ্যূৎ গ্রাহক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কারো কোন কথাই ডিজিএম ফকর উদ্দিন শোনেন না। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগের কথা বিদ্যূৎগ্রাহকগন জানিয়েছেন। তার এসব স্বেচ্ছাচারিতার ফলে স্থানীয় ভাবে কৃষকেরা জমিতে সেচ্ দিতে না পারায় নানান ধরনের অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকগনের সাথেও তিনি অশালীন আচরন করে ও তাদেরকে অজ্ঞ বলে মন্তব্য করায় সাংবাদিক মহল এর তিব্র নিন্দা জানান। ডিজিএম ফকর উদ্দিনের স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচার, গোয়ার্তুমি, শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য নিয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমারের নিকট মৌখিক ভাবে সাংবাদিক গ্রাহকগন অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি। তাই জনগনের মর্যাদা ও অবস্থান রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের উদ্রেগ হয়েছে। অবিলম্বে পল্লীবিদ্যূৎ চিলমারী জোনাল অফিসের স্বেচ্ছাচারী ও অত্যাচারী ডিজিএম ফকর উদ্দিনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।