বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যানারে ভোটের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো “হ্যাঁ
” ও “না ✘”—এর মাধ্যমে সহজভাবে তুলে ধরার কথা থাকলেও বাস্তবে এর বাস্তবায়নে রয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য। উপশহরকেন্দ্রিক কিছু প্রতিষ্ঠানে ব্যানার থাকলেও গ্রামাঞ্চলের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম কার্যত অনুপস্থিত।
উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের মূল ফটক কিংবা ভবনের সম্মুখভাগে কোনো ব্যানার নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান জানান, তারা এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা ব্যানার এখনো পাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্বাচনের বিষয়ে মৌখিক আলোচনা আছে, কিন্তু ব্যানার টানানোর মতো নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ বা উপকরণ আমাদের কাছে আসেনি।” বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘হ্যাঁ–না’ ভোটের ব্যানার টানানো মূলত ভোটার সচেতনতার অংশ হলেও বাস্তব প্রয়োগ না থাকলে এটি কেবল প্রতীকী কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের কাছে এই বার্তাগুলো পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুনাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সচেতনতা কার্যক্রম অসম্পূর্ণ, সেখানে সাধারণ ভোটারদের কাছে নিরপেক্ষ বার্তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।”
সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ‘হ্যাঁ–না’ ভোটের ব্যানার ঝুলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্ব কার? কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব থাকলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সামনে প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ রাখার আগে নির্বাচন কমিশনের উচিত সর্বত্র সমানভাবে সচেতনতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝুলে থাকা ‘হ্যাঁ–না’ ব্যানার শুধু একটি পোস্টার নয়—এটি গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি যদি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে দৃশ্যমান না হয়, তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নির্বাচন কি সত্যিই সবার জন্য সমান ‘হ্যাঁ’ বয়ে আনবে, নাকি নীরব ‘না’ই হবে বাস্তবতা?
মন্তব্য করুন