শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা
মাদারীপুরের শিবচরে ইতালিতে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়ার উপকুল থেকে সমুদ্রযাত্রায় পা রাখা শিবচর উপজেলার বেশ কয়েকজন যুবক এখন নিখোঁজ। দীর্ঘ এক মাসের যোগাযোগহীনতার পর ।
গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দেশে খবর আসে, ইতালিগামী ট্রলারটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছে। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নিশাত মাদবর ও বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ফারহান খান রোমানসহ এলাকার আরও কয়েকজন যুবক।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে চলছে নিশাত মাদবরের বাড়িতে আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদ। ৬ মাসের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন স্ত্রী মেহেনাজ। কোনো কথা বলতে পারছেনা নিশাতের মা-বাবাও। সবার একটাই প্রশ্ন -নিশাত কি বেঁচে আছে? দালাল কুদ্দুসের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকায় ইতালি পৌঁছানোর চুক্তিতে গত ৩ অক্টোবর বাড়ি ছাড়েন নিশাত। সৌদি আরব, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ১০ নভেম্বর 'গেম' ( সমুদ্র পথে যাত্রা) শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই আর কোনো যোগাযোগ নেই।
তার শ্বশুর মিজান মোল্লা বলেন, ১০ নভেম্বর কথা হয়েছিল। তারপর থেকে ফোন বন্ধ। পরে কূদ্দূস বলেন ট্রলার ডূইবে গেছে,বেশির ভাগেরই খোঁজ নাই।
নিশাতের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন,এক মাস ধরে খবর নাই। এখন বলে সমুদ্রে ডুইবে গেছে।
আমার একমাত্র পোলাডারে ফেরত চাই'।
২৩ বছরের ফারহান খান রোমান সৌদি আরবের প্রবাসী ছিলেন। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে বড় করতে ইতালিতে যাওয়ার লোভ দেখায় একই দালাল কুদ্দুস। ১৮ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর সৌদি থেকে লিবিয়ার পথে রওনা দেন রোমান। ১২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ইতালিগামী ট্রলারে ওঠার পর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা খবর পেয়েছেন, নৌকাডুবিতে রোমানসহ অনেকেই মারা গেছেন। কিন্তূ কারও মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি।
নিশাত ও রোমানের পাশাপাশি মুন্সীকান্দির যুবক মুন্না,শিবচর পৌরসভার দুইজনসহ অর্ধডজনেরও বেশি যুবকের কোনো সন্ধান নেই। পরিবারের দাবি,এরা সবাই একই দালালের মাধ্যমে ইতালিগামী ট্রলারে ছিলেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিবিয়ায় আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় আগে মামলা হয়েছে,
কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। তবে এবার নিখোঁজের বিষয়ে কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন