আনারুজ্জামান
আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ বঙ্গের কপোতাক্ষের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দক্ষিণ বঙ্গের এক কালের ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর মোকামসাতক্ষীরা জেলায় আশাশুনি উপজেলার বড়দল বাজার। বৃটিশ আমলের বাজারটি দীর্ঘকাল অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে বর্তমানে চরম বেহাল দশা গ্রস্থ হয়ে একেবারে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সরকারি কোন উদ্যোগ না দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি নিয়ে প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হয়েছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুল ওহাব মোল্যা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারী) উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমুর কাছে তিনি বড়দল বাজারের ঢালাই রাস্তা, পাকা চাঁদনী ঘর, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নের দাবী জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, কপোতাক্ষ পাড়ে অবস্থিত বাজারটি দক্ষিণ খুলনার বৃহত্তর মোকাম হিসাবে ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ছোট কলিকাতা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল বাজারটি। সে সময় বাজার হতে নদী পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা, শহর বন্দরের ব্যবসায়ীগণ পাইকারী মালামাল খরিদ করে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। সপ্তাহে রবিবারে হাট বসে। হাটের অধিকাংশ মালামাল আসতো নদী পথে। কালের বিবর্তনে কপোতাক্ষ নদে পলি জমে ভরাট হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মালামাল বহনের নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাজারের কলেবর ছোট হয়ে গেলেও বর্তমানে শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার তিন দিনে বিভিন্ন ধরনের কাপড় সহ অন্যান্য মালামাল পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে মাদুরের ব্যবসাটি এখনও চলছে স্বগৌরবে। কপোতাক্ষ খননের ফলে নৌকা আসতে যেমন অসুবিধা নেই তেমন বড়দল ব্রীজ হওয়ায় স্থলপথে মালামাল বহনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখনই সময় বাজারটিতে আধুনিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বাজারটি দীর্ঘকাল ব্যক্তি মালিকানায় থাকলেও এখন পেরিফেরিভুক্ত হয়েছে। ফলে বাজার হতে অনেক রাজস্ব আদায় হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকেই পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা না থাকায় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণকে ভোগান্তির মধ্যে কাটাতে হয় যুগের পর যুগ। বাজারের চলাচলের রাস্তাগুলো খুবই নাজুক হওয়ায় মালামাল বহন ও মানুষের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। বড়দল বাজারে ছোট একটা মাছের কাটা আছে নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায়, অন্যের ঘরের বারান্দায় বসে কেনা বেচা করতে হয়। সেখানে সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা পানি জমে থেকে, দূর্গন্ধ ছড়ায়। চাঁদনী ঘরের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে বিক্রেতাদের যেমন মালামালের পসরা বিছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে তেমনি ক্রেতাদের রোদ বৃষ্টিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সাপ্তাহিক হাটের দিন বাজার চাঁদনি ছেড়ে দোকানীরা মেইন রোডে মালামাল বিক্রি করছেন। এতে পথচারীদের ভোগান্তি হলেও কিছু করার থাকে না।
এছাড়া বাজারে মধ্যে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পিত কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় অনেক স্থায়ী দোকানদারদের বাড়ির মধ্যে পানি জমে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি মৌসুমে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে চলাফেরা করে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়। বড়দল বাজারকে আধুনিক বাজারে পরিনত করে তার হৃত গৌরবকে ফিরিয়ে নিতে ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ভেতরের সকল রাস্তা গুলো কার্পেটিং, পাকা চাঁদনী ঘর, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণ করা সহ সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন বাজারের শত শত ব্যবসায়ীরাসহ স্থানীয় সচেতন মহল।