সবুজ মন্ডল
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ার জেরে প্রকাশ্যে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারীর নাম সুমাইয়া খাতুন (৩৪)। তিনি বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সুমাইয়া খাতুন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের ট্রাকচালক জীবন হাসানের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের মোস্তফা প্রামানিকের ছেলে সবুজ প্রামানিক (২৫) ও তার পিতা মোস্তফা প্রামানিক (৪২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সবুজ ভুক্তভোগীর ভাসুরের ছেলে এবং মোস্তফা ভাসুর বলে জানিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সবুজ প্রামানিক গত এক মাস ধরে জীবন হাসানের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় বাড়িতে এসে গালিগালাজ ও হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সুমাইয়া খাতুন সাংসারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বাহাদুরপুর বাজারে গেলে অভিযুক্ত সবুজ তাকে দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় অভিযুক্ত সবুজের পিতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত সুমাইয়াকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
আহতের স্বামী জীবন হাসান বলেন, “এক মাস ধরে আমার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে নানা হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন আমার স্ত্রী বাজারে গেলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার আগেও অভিযুক্তরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথমে ভুক্তভোগী পক্ষ তার ছেলেকে আঘাত করলে পাল্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল গণি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা শিগগিরই থানায় মামলা দায়ের করবেন।