আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন একাধিক পরিবার। উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের চান্দইল কামারপাড়া হলদিডাঙ্গা এলাকার লেংড়ার মোড় সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা বাঁশের বেড়া ও জালের ফাঁদ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ২৪ থেকে ২৫ বছর ধরে তারা ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
যাদের বাড়ির প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তারা হলেন— আমিনুর ইসলাম (চা-দোকানদার), নুরনবী, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, আলাউদ্দিন, রেজাউল করিম, জয়নাল, সিরাজুল হক, সফিকুল ইসলাম, বকুলসহ আরও কয়েকটি পরিবার। এসব পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উক্ত রাস্তাটি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, নাজমুল হক দাবি করছেন— রাস্তার অংশটি তার নিজস্ব জমির ওপর অবস্থিত, তাই সেখানে দিয়ে কেউ চলাচল করতে পারবেন না। ফলে বাধ্য হয়ে পরিবারগুলো বর্তমানে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি রাস্তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক এবং সামাজিকভাবে অনৈতিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাও বিরাজ করছে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, চলাচলের কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা অবিলম্বে তদন্তসাপেক্ষে রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল হকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত মালিকানা ও সামাজিক অধিকার— উভয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে প্রশাসনিকভাবে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসী গুরুতর জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।