আজিজুর রহমান
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যশোরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। ফাঁকা আসন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ঘোষিত পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে চূড়ান্ত সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে। ঘোষিত প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও প্রার্থিতাবঞ্চিতরা প্রার্থি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। বঞ্চিতরা নিজ দলের প্রার্থীকে ব্যর্থ প্রমাণে প্রতিদিনই সভা-সমাবেশে একে অন্যকে ঘায়েল করে দিচ্ছেন বক্তব্য। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে উত্তাপ-উত্তেজনা।
গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে চারজন নিজ নিজ বলয় নিয়ে মাঠ গোছানোর কাজ করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থিতা না পাওয়ায় হতাশ ঝিকরগাছা-চৌগাছা উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা মুন্নী। দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থিতা পেয়েই একবার ঝিকরগাছা আরেকবার চৌগাছার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে ছুটে বেড়াচ্ছেন মুন্নী। তবে এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন অন্য প্রার্থিতাপ্রত্যাশী অন্যরা। এ কারণে তাঁরা এখন পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি। প্রার্থিতা পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন ঝিকরগাছা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুন ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল সালাম। নতুন করে প্রার্থিতার দাবিতে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। পৃথক কর্মসূচি করে বেড়াচ্ছেন আরেক প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামও। সম্ভাব্য প্রার্থিতাবঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মীরা বলেছেন, আসনটিতে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি নিজের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে বেশ কিছুদিন ধরে জনসংযোগ চালিয়ে আসা মিজানুর রহমান খান এখনো মনে করছেন, দল প্রার্থী পুনর্বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য প্রার্থিতা দেওয়ার আগেই তারেক রহমান নিজে আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। সে অনুযায়ী কাজ করছি।’ জানতে চাইলে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘জনসংযোগে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। প্রতিটি পথসভায় নারী ও পুরুষের উপস্থিতি প্রায় সমান।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থিতা না পাওয়া প্রার্থিতাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থিতা দেওয়ার পর নেতা-কর্মীরা ব্যক্তি নয়; সবাই ধানের শীর্ষের পক্ষে কাজ করবে।