মোঃ রাতুল হাসান লিমন
ইরানে মুদ্রার দরপতনকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের ফাসা শহরে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীরা স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
একই সময়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের হামেদান ও লোরেস্তান প্রদেশেও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্বারা যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, ফাসা শহরে গভর্নরের দপ্তরের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে একদল মানুষ। পরে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী তেহরানে বুধবার হঠাৎ করে ব্যাংক ছুটির ঘোষণা দেয় সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। যদিও সরকার বলছে, শীতকালীন জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এটিকে বিক্ষোভ দমনের কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
রোববার তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে দোকানিরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার আকস্মিক দরপতনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হন এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ শোনা যায়।
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই সবচেয়ে বড় আকারের আন্দোলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও এবারের বিক্ষোভ সেই সময়ের মতো ব্যাপক নয়।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেহরানের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। তবে একই সঙ্গে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।