জরাজীর্ন ও ধংসস্তুপ অবস্থায় পড়ে আছে, বাংলার অন্ধকার ইতিহাসের স্বাক্ষী মাদারীপুরের, আউলিয়াপুর "নীলকুঠি "।মাদারীপুর সদর উপজেলার, ছিলারচর ইউনিয়নের,আউলিয়াপুর গ্রামে অবস্থিত।যা আউলিয়াপুর দরগা শরীফের পাশেই অবস্থিত।এটি মাদারীপুর শহর থেকে ১০ কি:মি: দুরে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে- ১৭৭৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে, নীল চাষের আগমন ঘটে এবং ১৮৩০ সালের মধ্যে বাংলায় প্রায় ১০০০ টির বেশি নীল তৈরির কারখানা স্থাপন করেন, তারই ধারাবাহিকতায়, মাদারীপুরের আউলিয়াপুরে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে এই " নীলকুঠি "স্থাপিত হয়।ইংরেজ নীলকর ডানলপ এই কুঠি নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। এটি ডানলপ সাহেবের নীলকুঠি বা ঢকল সাহেবের কুঠি নামে পরিচিত। এই কুঠি থেকে কৃষকদের নীল চাষের জন্যে বাধ্য করা হতো,চাষ না করতে চাইলে,তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও শোষন চালানো হত।অত্যাচার যখন সহনাতীত পর্যায়ে পৌছায়,তখন ফজায়েজী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লা(র) এবং তার পূএ পীর মহসিন উদ্দিন,দুদু মিয়া(র) কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।এ সময় কৃষকদের উপর নানা নির্যাতন ও জুলুমের স্বাক্ষী এই নীলকুঠি। বয়স্করা মনে করেন এটি একটি অভিশপ্ত জায়গা,যা বহু অন্ধকার ইতিহাসের স্বাক্ষী। এটি একটি অন্ধকারচ্ছন্ন জীবন্ত ইতিহাস। স্থানীয়রা বলেন প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী, জীবন্ত ইতিহাস প্রতক্ষ করার জন্য এখানে ছুটে আছেন। বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যার ১২ কক্ষ বিশিষ্ট ভাঙ্গা দালান ও ৪০ ফুট উচ্চতার একটি চিমনি অবশিষ্ট আছে। ইতিহাসের এই অন্ধকারাচ্ছন্ন, স্বাক্ষটির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। আশাকরি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
জনসম্মুখে ধরল, পরে ছাড়ল-ডিবির আচরণে প্রশ্ন
1
গজারিয়ায় একের পর এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি
2
তালতলী পুকুরে ডুবে আবদুল্লাহ্ নামের এক শিশুর মৃত্যু
3
হোসেনপুরে শহীদ জিয়ার নামে স্লোগান দেয়ায় ইউএনও'র রাগান্বিত
4
আমরা সবাই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কথা বলছি, এটাই গণতন্ত্রের
5
জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে